মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৩

সিয়াম বিষয়ক নির্বাচিত ফাতওয়া (৩য় পর্ব)

সিয়াম বিষয়ক নির্বাচিত ফাতওয়া (৩য় পর্ব)




ই‘তিকাফের মূল আদর্শ, কেন মুসলিমরা এই সুন্নাহ ছেড়ে দিয়েছে?
ফাত্‌ওয়া নং - 49007
প্রশ্ন : কেন মুসলিমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ হওয়া সত্ত্বেও ই‘তিকাফ ছেড়ে দিয়েছে? আর ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্যই বা কি?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য

প্রথমত :
ই‘তিকাফ হল মু’আক্কদাহ সুন্নাহ; যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করতেন।
এর শারী‘আত সম্মত হওয়ার ব্যাপারে দলীলগুলো দেখুন (48999) প্রশ্নের উত্তরে।
আর এই সুন্নাহ তো মুসলিমদের জীবন থেকে হারিয়েই গেছে -সে ব্যতীত যাকে আমার রাব্ব দয়া করেছেন- এর অবস্থা সে সুন্নাহগুলোর মতই যা মুসলিমরা একেবারেই ত্যাগ করেছে বা একেবারে ত্যাগ করার পথে।

আর এর কিছু কারণ রয়েছে যেমন :
১. অনেকের মনে ‘ঈমানের দুর্বলতা।
২. দুনিয়ার জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য, ভোগ বিলাসের প্রতি অত্যধিক মাত্রায় ঝুঁকে পড়া; যার কারণে তারা অল্প সময়ের জন্য হলেও এসব থেকে দূরে থাকতে অক্ষম।
৩. অনেক মানুষের মনে জান্নাত লাভের আকাঙ্ক্ষার অভাব এবং আরাম-আয়েশের দিকে তাদের ঝুঁকে পড়া, তাই তারা ই‘তিকাফের সামান্য কষ্টও সহ্য করতে চায় না যদিও তা আল্লাহ-সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য হোক না কেন।
যে জান্নাতের মহান মর্যাদা ও তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে জানে, সে তার জন্য তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ক্বুরবান করে হলেও তা লাভের চেষ্টা করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
«أَلا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ غَالِيَةٌ ، أَلا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ الْجَنَّةُ» رواه الترمذي وصححه الألباني (2450)
“নিশ্চয়ই আল্লাহ’র পণ্য অত্যন্ত মূল্যবান, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ’র পণ্য হচ্ছে জান্নাত।”
[ইমাম আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং আল-আলবানী একে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেছেন (২৪৫০)]
৪. অনেকের মনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য ভালবাসা শুধু মৌখিকভাবে সীমাবদ্ধ থাকা, বাস্তব তথা কর্মগত দিকে তার কোনো প্রয়োগ না থাকা। অথচ এ ভালবাসার বাস্তব চিত্র হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের বিভিন্ন দিক বাস্তবায়ণ করা। আর সে সুন্নাতসমূহের একটি হল ই‘তিকাফ। আল্লাহ বলেছেন :
﴿ لَّقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِي رَسُولِ ٱللَّهِ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ لِّمَن كَانَ يَرۡجُواْ ٱللَّهَ وَٱلۡيَوۡمَ ٱلۡأٓخِرَ وَذَكَرَ ٱللَّهَ كَثِيرٗا ٢١ ﴾ [الاحزاب: ٢١] 
“নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহর মাঝে আছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ, তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে।”  [আল-আহযাবঃ ২১]
ইবনু কাসীর -রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন : (৩/৭৫৬)
“এই সম্মানিত আয়াতটি রাসূলুল্লাহর সকল কথা, কাজ ও অবস্থা (সুন্নাহ) সর্বাবস্থায় অনুসরণের ব্যাপারে একটি মহান নীতি।”
পূর্ববর্তী সাহাবী, তাবি‘ঈ ও আতবা‘উত তাবি‘ঈগণের অনেকে মানুষদের ই‘তিকাফ ছেড়ে দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়মিত করেছেন।
ইবনু শিহাব আয-যুহরী বলেছেন :
“এটি খুবই আশ্চর্যজনক যে, মুসলিমরা ই‘তিকাফ ত্যাগ করেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে প্রবেশ করার পর থেকে আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করা পর্যন্ত তিনি ই‘তিকাফ ত্যাগ করেন নি।”

দ্বিতীয়ত :
যে ই‘তিকাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিতভাবে পালন করেছেন, তা হল রমযান মাসের শেষ দশ দিনে। এই কয়টি দিন- সত্যিকার অর্থে একটি ইনটেনসিভ শিক্ষামূলক কোর্সের ন্যায় যার ইতিবাচক তড়িৎ ফসল একজন মানুষের জীবনে ই‘তিকাফের দিন ও রাতগুলোতেই পরিলক্ষিত হয়। আর এর আরও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে একজন মানুষের জীবনে পরবর্তী রমযান পর্যন্ত, তার আগামী দিনগুলোতে।
তাই আমাদের মুসলিম সমাজে কতই না প্রয়োজন এই সুন্নাহকে উজ্জীবিত করা এবং সঠিক পন্থায় তা প্রতিষ্ঠা করা, যার উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ ছিলেন।
মানুষের এই গাফিলতি ও উম্মাতের এই ফাসাদের সময় যারা সুন্নাহকে আকঁড়ে ধরে আছে, তাদের পুরষ্কার কতই না মহান হবে!

তৃতীয়ত :
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্য ছিল, লাইলাতুল ক্বাদরের খোঁজ করা।
ইমাম মুসলিম (১১৬৭) এ আবূ সা ‘ঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন :
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوَّلَ مِنْ رَمَضَانَ ، ثُمَّ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ (أي : خيمة صغيرة) عَلَى سُدَّتِهَا (أي : بابها) حَصِيرٌ . قَالَ : فَأَخَذَ الْحَصِيرَ بِيَدِهِ فَنَحَّاهَا فِي نَاحِيَةِ الْقُبَّةِ ، ثُمَّ أَطْلَعَ رَأْسَهُ فَكَلَّمَ النَّاسَ ، فَدَنَوْا مِنْهُ.
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের প্রথম দশ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন। এরপর তিনি মাঝের দশ দিন তুর্কী ক্বুব্বাহ-তে (এক ধরণের ছোট তাঁবুতে) ই‘তিকাফ করেছিলেন যার দরজায় একটি কার্পেট ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁর হাত দিয়ে কার্পেটটিকে ক্বুব্বাহর এক পাশে সরিয়ে দিলেন; এরপর তাঁর মাথা বের করে লোকদের সাথে কথা বললেন, তাঁরা (উপস্থিত লোকেরা) তাঁর (রাসূলের) কাছে আসলেন; অতঃপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন,
«إِنِّي اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوَّلَ أَلْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ، ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ ، ثُمَّ أُتِيتُ فَقِيلَ لِي : إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ ، فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ»، فَاعْتَكَفَ النَّاسُ مَعَهُ .
“আমি প্রথম দশ দিন ই‘তিকাফ করেছি, এই রাতের (লাইলাতুল ক্বাদরের) খোঁজে, এরপর মাঝের দশ দিন ই‘তিকাফ করেছি, এরপর আমার কাছে এসে বলা হল: ‘এটি শেষ দশকে’। সুতরাং আপনাদের মাঝে যে ই‘তিকাফ করতে পছন্দ করে/চায়, সে যাতে ই‘তিকাফ করে।” এরপর লোকেরা তাঁর সাথে ই‘তিকাফ করলেন।

এই হাদীসে কিছু শিক্ষণীয় দিক রয়েছে :
১. রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের ই‘তিকাফের মূল লক্ষ্য ছিল লাইলাতুল ক্বাদরের খোঁজ করা; আর সেই রাতে ক্বিয়াম করা ও তা উজ্জীবিত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়া, আর তা হল এই রাতের মহান ফযীলত এর কারণে। আর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿ لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣ ﴾ [القدر: ٣] 
“লাইলাতুল ক্বাদ্‌র হাজার মাস থেকেও উত্তম।’’ [আল-ক্বাদর:৩]
২.এর (এই রাতের) সময়সীমা জানার আগে–তা খোঁজার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর পরিশ্রমে লিপ্ত হওয়া। তিনি শুরু করেন প্রথম দশ দিনে, এরপর মাঝের দশ দিনে, এরপর মাসের শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁকে জানানো হয় যে, তা (লাইলাতুল ক্বাদ্‌র) শেষ দশকে। আর এ হল লাইলাতুল ক্বাদরের খোঁজে এক সর্বাত্মক সাধনা।
৩. সাহাবীগণের -রিদ্বওয়ানুল্লাহি ‘আলাইহিম- রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা; কারণ, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ই‘তিকাফ শুরু করে মাসের শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখেছিলেন, আর তা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের পূর্ণাংগভাবে অনুসরণের কারণে।
৪. রাসূলুল্লাহর-সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণের প্রতি ভালবাসা ও দয়া। ই‘তিকাফের কষ্টের কথা তাঁর জানা ছিল বলে তিনি তাঁদের (সাহাবীদের) তাঁর সাথে ই‘তিকাফ চালিয়ে যাওয়া অথবা বের হয়ে যাওয়ার ইখতিয়ার দিয়েছিলেন, বলেছিলেন :
« فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ»
“সুতরাং আপনাদের মাঝে যে ই‘তিকাফ করতে পছন্দ করে/চায়, সে যেন ই‘তিকাফ করে।”
এছাড়াও ই‘তিকাফের অন্যান্য উদ্দেশ্য রয়েছে, যেমন :
১। মানুষের থেকে যথাসম্ভব আলাদা হয়ে আল্লাহ ‘আযযা ওয়া জাল্ল-এর সান্নিধ্যে একা হয়ে যাওয়া।
২. আল্লাহ –তাবারাকা ওয়া তা‘আলা-র প্রতি সর্বাত্মকভাবে মনোনিবেশ করে আত্মশুদ্ধিকরণ।
৩. সালাত আদায়, দো‘আ করা, যিক্‌র পাঠ, কুর’আন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ‘ইবাদাত করার জন্য সম্পূর্ণভাবে লেগে যাওয়া।
৪.নাফসের কু প্রবৃত্তি ও কামনা বাসনা যা সাওমে র উপর প্রভাব ফেলে তা থেকে সাওমকে রক্ষা করা।
৫.দুনিয়াবী মুবাহ বিষয়সমূহ ভোগ কমিয়ে দেওয়া এবং তার অধিকাংশের ব্যাপারে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ভোগ করার ক্ষেত্রে যুহদ বা কৃচ্ছতা অবলম্বন করা।
দেখুন, আব্দুল লাত্বীফ বালতুব এর ‘ই‘তিকাফ- শিক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রন্থটি।
Islam Q & A

ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা
ফাত্‌ওয়া নং - 49002
প্রশ্ন : ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময় কত? আমি কি অল্প কিছু সময়ের জন্য ই‘তিকাফ করতে পারি নাকি একসাথে কিছু দিনের জন্য ই‘তিকাফ করতে হবে?
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমার ব্যাপারে ‘আলিমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে।
অধিকাংশ ‘আলিমগণের মতে ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময় এক মুহূর্তের জন্যও হতে পারে। আর এটি ইমাম আবূ হানীফাহ, ইমাম আশ-শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদের মত।
দেখুন: আদ-দুরর আল-মুখতার(১/৪৪৫), আল-মাজমূ‘(৬/৪৮৯), আল-ইনসাফ (৭/৫৬৬)।
ইমাম আন-নাওয়াউয়ী ‘আল-মাজমূ‘’ (৬/৫১৪)-তে বলেছেন :
   “আর ই‘তিকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা সম্পর্কে অধিকাংশ (‘আলিমগণ) যে মত তা‘কীদের সাথে পোষণ করেন এবং এটিই সঠিক মত যে এর জন্য মাসজিদে অবস্থান শর্ত (অর্থাৎ ই‘তিকাফ মাসজিদে হতে হবে) এবং তা বেশি বা অল্প সময়ের জন্য হতে পারে, কিছু সময় বা মুহূর্তের জন্যও”।
আর এ ব্যাপারে তাঁরা বেশ কয়েকটি দলীল দিয়েছেন :
১. ই‘তিকাফের শাব্দিক অর্থ অবস্থান করা যা দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হতে পারে। আর শারী‘আতে এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় না, যা কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়।
ইবনু হাযম বলেছেন :
   “ই‘তিকাফ আরবদের ভাষায়-অবস্থান করা। তাই আল্লাহ তা‘আলার মাসজিদে তাঁর নৈকট্য লাভের আশায় যে কোনো অবস্থানই হল ই‘তিকাফ.........সময়সীমা কম হোক বা বেশি হোক, যেহেতু কুর’আন ও সুন্নাহ নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বা সময় নির্ধারণ করেনি”। [আল-মুহাল্লা (৫/১৭৯)]
২. ইবনু আবী শাইবাহ, ইয়া‘লা ইবনু উমাইইয়াহ –রাহিমাহুল্লাহ-থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন : “আমি মাসজিদে ‘সা‘আহ’ বা কিছু সময় অবস্থান করি আর আমি ই‘তিকাফ করার জন্যই অবস্থান করি।” এটি দ্বারা ইবনু হাযম-‘আল-মুহাল্লা’-তে (৫/১৭৯) দলীল পেশ করেছেন।
হাফিয ইবনু হাজার ‘ফাতহুল বারী’-তে তা উল্লেখ করে চুপ থেকেছেন (অর্থাৎ কোনো মন্তব্য করেন নি)।
আর সা‘আহ হল সময়ের কিছু অংশ, বর্তমান পরিভাষায় ব্যবহৃত ষাট মিনিটের এক ঘণ্টা নয়। [উল্লেখ্য যে সাম্প্রতিক পরিভাষায় ‘আরাবীতে এক ঘণ্টা(৬০ মি:) কে সা‘আহ বলে।]
‘আলিমগণের মধ্যে কারও কারও মতে এর (ই‘তিকাফের) সর্বনিম্ন সময় একদিন। এটি ইমাম আবূ হানীফাহ’র এক বর্ণনা এবং মালিকী ফিক্বহী মাযহাবে কেউ কেউ এ মত পোষণ করেছেন।
আর শাইখ ইবনু বায ‘মাজমূ‘আল ফাত্‌ওয়া’ তে (১৫/৪৪১) বলেছেন :
“ই‘তিকাফ হল আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মাসজিদে অবস্থান করা, সময় কম হোক বা বেশি হোক। কারণ আমার জানা মতে এমন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না, যা একদিন, দুই দিন বা এর বেশি কিছু নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করে। আর তা শারী‘আতসম্মত একটি ‘ইবাদাত যদি না কেউ নাযর (মান্নত) করে,-নাযরের (মান্নতের) দ্বারা তা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর তা নারী ও পুরুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।”
Islam Q & A

মাসজিদে নারীদের ই’তিকাফ
ফাত্‌ওয়া নং - 37698
প্রশ্ন : একজন নারীর জন্য রমযানের শেষ দশদিনে ই‘তিকাফ করা জায়েয কি না?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
হ্যাঁ, একজন নারীর জন্য রমযানের শেষ দশদিনে ই‘তিকাফ করা জায়েয।
বরং ই‘তিকাফ নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্যই সুন্নাত এবং উম্মাহাতুল মু’মিনীন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুন্না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ই‘তিকাফ করেছেন এবং তিনি মারা যাওয়ার পরও ই‘তিকাফ পালন করেছেন।
ইমাম আল-বুখারী (২০২৬) এবং মুসলিম (১১৭২), নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী ‘আয়েশাহ্‌ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে :
«أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ ، ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ»
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দানের আগ পর্যন্ত রমযানের শেষ দশদিন ই‘তিকাফ পালন করতেন, তারপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ পালন করতেন।”
‘আউন আল-মা‘বূদ গ্রন্থে বলা আছে-
“এতে দলীল পাওয়া যায় যে ই‘তিকাফের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের সমতুল্য।”
শাইখ ‘আবদুল-আযীয ইবনু বায (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া প্রদর্শন করুন) বলেছেন :
‘ই‘তিকাফ নারী এবং পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নাত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি রমযানে ই‘তিকাফ পালন করতেন এবং সবশেষে তাঁর ই‘তিকাফ শেষ দশদিনে স্থির হয় এবং তাঁর কিছু স্ত্রীগণও তাঁর সাথে ই‘তিকাফ পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (মৃত্যুর) পর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ পালন করতেন। আর ই‘তিকাফের জায়গা হচ্ছে মাসজিদসমূহ; যেখানে জামা‘আতের সালাত আদায় করা হয়।”
(ইন্টারনেটে শাইখ ইবনু বাযের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে।)
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A

একজন নারীর জন্য তার ঘরে ই‘তিকাফ করা শুদ্ধ নয়
ফাত্‌ওয়া নং - 37911
প্রশ্ন : একজন নারীর জন্য ঘরে ই‘তিকাফ করা জায়েয কিনা? সে কী করবে যদি তার রান্না করার প্রয়োজন পড়ে?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
ই‘তিকাফ শুধুমাত্র মাসজিদে করা বৈধ। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন :
﴿وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ﴾ [البقرة: ١٨٧] 
“আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফরত (দুনিয়াবী কাজ থেকে বিরত থেকে নিজেকে ‘ইবাদত ও প্রার্থনার জন্য মাসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখা) অবস্থায় মাসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।” [আল-বাক্বারাহঃ ১৮৭]
এই হুকুম পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।
ইবনু ক্বুদামাহ ‘আল-মুগনী’-তে (৪/৪৬৪) বলেছেন :
‘একজন নারী সব মাসজিদে ই‘তিকাফ করতে পারে এবং সে মাসজিদে জামা‘আতে সালাত আদায় করতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই, কারণ, এটি (জামা‘আতে সালাত আদায়) তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।” আর ইমাম আশ-শাফি‘ঈ এই মত পোষণ করেছেন।
নারীর জন্য তার ঘরে ই‘তিকাফ করার বিধান নেই, কারণ আল্লাহ বলেছেন :
﴿وَلَا تُبَٰشِرُوهُنَّ وَأَنتُمۡ عَٰكِفُونَ فِي ٱلۡمَسَٰجِدِۗ﴾ [البقرة: ١٨٧] 
“আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফরত (দুনিয়াবী কাজ থেকে বিরত থেকে নিজেকে ‘ইবাদত ও প্রার্থনার জন্য মাসজিদের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখা) অবস্থায় মাসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।” [আল-বাক্বারাহঃ ১৮৭]
এবং রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীগণ তাঁর কাছে মাসজিদে ই‘তিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাঁদেরকে অনুমতি দিয়েছিলেন।’
‘আল-মাজমূ‘ (৬/৪৮০) তে ইমাম আন-নাওয়াউয়ী বলেছেন :
“পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্য মাসজিদের বাইরে ই‘তিকাফ করা শুদ্ধ নয়।”
এটি “আশ-শারহ আল-মুমতি‘” (৬/৫১৩) তে শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন এই মতই পোষণ করেছেন।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A

যাকাতুল ফিত্বর - এর পরিমাণ এবং তা আদায় করার সময়
ফাত্‌ওয়া নং - 49793
প্রশ্ন : আমরা মরক্কোর একটি সংস্থার সদস্য, বার্সেলোনাতে বাস করি। আমরা কিভাবে যাকাতুল ফিত্বর হিসাব করব?
উত্তর :
 সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি মুসলিমদের উপর যাকাতুল ফিত্বর ফরয করেছেন আর তা হল এক সা‘ খেজুর বা এক সা‘ জব এবং তিনি সালাতের জন্য অর্থাৎ ‘ঈদের (ফিত্বরের) সালাতে বের হওয়ার আগে তা আদায় করতে আদেশ করেছেন। দুই সহীহ গ্রন্থে (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমে) আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন :
كُنَّا نُعْطِيهَا فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ.
   “আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে তা (যাকাতুল ফিতর) খাদ্যদ্রব্য থেকে এক স্বা‘ বা খেজুর থেকে এক স্বা‘ বা জব থেকে এক স্বা‘ বা কিসমিস থেকে এক স্বা‘ হিসেবে দিতাম।” [বুখারী (১৪৩৭)]
একদল ‘আলিম এই হাদীসে ব্যবহৃত ‘খাদ্যদ্রব্য’ শব্দটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তা হল গম (বুর্‌/ক্বাম্‌হ)।
আবার অনেকে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে এর উদ্দেশ্য হল সে দেশের অধিবাসীগণ যা খায় তা গম, ভুট্টা, পার্ল মিলেট (pearl millet) বা এছাড়া অন্য যাই হোক না কেন- আর এটি সঠিক মত। কারণ যাকাত হল দরিদ্রদের প্রতি ধনীদের সহানুভূতি, আর তার (যাকে যাকাত দেয়া হয়) দেশের খাদ্যদ্রব্য নয় এমন কিছু দিয়ে সহানুভুতি প্রকাশ করা একজন মুসলিমের উপর ওয়াজিব নয়। আর এতে সন্দেহ নেই যে, চাল- হারামাইনের দেশের (সউদি আরবের) প্রধান খাদ্য, এক উত্তম ও মূল্যবান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত যা বার্লি থেকে উত্তম, যে (বার্লি) হাদীসের পাঠে (মাত্‌নে) যথেষ্ট বলে উল্লেখিত হয়েছে। তাই এ থেকে জানা গেল যে চাল দিয়ে যাকাতুল ফিতর আদায় করায় কোনো দোষ নেই।
ওয়াজিব হল সকল প্রকার খাবারের এক সা‘ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিসাব অনুযায়ী এক সা‘ (যাকাতুল ফিতর) আদায় করা। আর এর পরিমাপ হল স্বাভাবিক দুই পূর্ণ হাতের চার মুঠো, যেমনটি আছে আল-ক্বামূস ও অন্যান্য অভিধানে –ওজনের হিসাবে তা ৩ কিলোগ্রামের কাছাকাছি। যদি কোনো মুসলিম চাল বা তার দেশের খাদ্যদ্রব্য থেকে এক সা‘ দিয়ে (যাকাতুল ফিতর) আদায় করে, তবে আলিমগণের দুই মতের বেশি শক্তিশালী মতানুসারে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে যদিও বা তা এই হাদীসে উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তা ওজনের হিসেবে প্রায় ৩ কিলোগ্রাম দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।
ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-দাস সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আর ‘আলিমগণের ইজমা‘ (ঐকমত্য) অনুসারে গর্ভের ভ্রূণের পক্ষ থেকে তা আদায় করা ওয়াজিব নয়, তবে ‘উসমান-রাদিয়াল্লাহু আনহু- (তা) করেছেন বলে মুস্তাহাব্ব।
আর ওয়াজিব হল ‘ঈদের সালাতের আগেই তা আদায় করা, ‘ঈদের সালাতের পর পর্যন্ত দেরি করা জায়েয নয়। ‘ঈদের আগে এক বা দুই দিন আগে তা আদায় করায় কোন বাঁধা নেই। তাই এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তা আদায়ের সময় শুরু হয় ‘আলিমগণের মতামতের সবচেয়ে সঠিক মতটি অনুসারে ২৮তম রাতে; কারণ এই (রমযান) মাস ২৯ দিনের হতে পারে আবার ৩০ দিনেরও হতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ যাকাতুল ফিতর ‘ঈদের এক বা দুই দিন আগে আদায় করতেন। 
আর যাকাতুল ফিতর দিতে হবে ফকির ও মিসকীনদের। ইবনু ‘আব্বাস-রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা- থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন :
«فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنْ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ ، وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ ، مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ ، وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنْ الصَّدَقَاتِ» .
رواه أبو داود وحسنه الألباني في صحيح أبي داود
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন একজন সাওম পালনকারীর অনর্থক কাজ ও অশ্লীলতা হতে পবিত্রতাস্বরূপ ও মিসকীনদের জন্য খাওয়ার হিসেবে। যে তা ‘ঈদুল ফিতরের সালাতের আগে আদায় করবে, তার পক্ষ থেকে তা কবুল যোগ্য যাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর যে তা ‘ঈদুল ফিত্বরের সালাতের পর আদায় করবে, তা সাদাক্বাহসমূহের মধ্যে একটি বলে গণ্য হবে।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ (১৬০৯) এবং আল- আলবানী একে ‘সহীহ আবী দাঊদ’ এ হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন]
আর ‘আলিমগণের অধিকাংশের মতে ও দলীলের বিবেচনায় বেশি সঠিক মত অনুসারে মূল্য দ্বারা (অর্থ দিয়ে) যাকাতুল ফিতর আদায় করা সঠিক নয় বরং ওয়াজিব হল তা খাদ্যদ্রব্য থেকে আদায় করা; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ করেছেন এবং উম্মাতের অধিকাংশই (‘উলামা’) এ মত প্রকাশ করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে চাই যাতে তিনি আমাদের ও সকল মুসলিমদেরকে তাঁর দ্বীনের ফিক্বহ (বুঝ) ও তার উপর অটল অবিচল থাকার তাওফীক্ব দেন, আমাদের অন্তরসমূহ ও কাজকর্মকে শুদ্ধ করেন, তিনি তো মহামহিম, পরম করুণাময়।” [মাজমূ ফাত্‌ওয়া আশ শাইখ ইবন বায (১৪/২০০)]
কিলোগ্রামের হিসেবে শাইখ ইবনু বায-রহিমাহুল্লাহ-এর মতে যাকাতুল ফিত্বরের পরিমাণ–প্রায় ৩ কিলোগ্রাম।
আর এভাবেই ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমগণ এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। (৯/৩৭১)
শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন-রাহিমাহুল্লাহ- চাল দিয়ে এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন ২১০০ গ্রাম (অর্থাৎ ২.১ কিলোগ্রাম) [যেমনটি উল্লেখ আছে ‘ফাত্‌ওয়া আয-যাকাত’ (পৃঃ ২৭৪-২৭৬)-এ]
আর এই মতভেদের কারণ হল সা‘- পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত, ওজন দ্বারা নির্দিষ্ট নয়।
তবে ‘আলিমগণ তা ওজন দ্বারা হিসাব নির্ধারণ করেছেন কারণ তা হিসাব রাখার ক্ষেত্রে বেশি সহজ ও বেশি বিশুদ্ধ। আর এটি জানা কথা যে শস্যের দানার ওজন ভিন্ন ভিন্ন হয়; কারণ তার কোনোটি হালকা আবার কোনোটি ভারী, আবার কোনোটি মাঝারী ওজনের; বরং কখনো আবার একই প্রকার শস্যদানার এক সা‘ এর ওজনও ভিন্ন ভিন্ন হয়। নতুন ফসলের ওজন পুরানো ফসলের ওজন থেকে বেশি হয়। আর তাই যদি কেউ সতর্কতাবশত কিছু বেশি আদায় করে, তবে তা বেশি নিরাপদ ও উত্তম।
দেখুন ‘আল-মুগনী’, (৪/১৬৮)। এতে ফসলের যাকাতের নিসাবের পরিমাণ ওজনের হিসাবে এরূপ উল্লেখিত হয়েছে।
এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
Islam Q & A

দুই ‘ঈদের সালাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো আদর্শ
ফাত্‌ওয়া নং - 49020
প্রশ্ন : আমি দুই ‘ঈদের সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখানো আদর্শ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ‘ঈদের সালাত ‘ঈদগাহে আদায় করতেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের সালাত মাসজিদে আদায় করেছেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।

ইমাম আশ-শাফি‘ঈ ‘আল-উম্ম’- এ বলেছেন :
“আমাদের কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ‘ঈদের দিন মাদীনার ঈদগাহে যেতেন, তাঁর পরেও সবাই তাই করতেন যদি না তা না করার পেছনে কোন ‘উয্‌র (অজুহাত) থাকত যেমন বৃষ্টি ইত্যাদি। অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীরাও তাই করতেন মক্কাবাসীরা ব্যতীত।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরে দুই ‘ঈদের সালাত আদায় করতে বের হতেন। তাঁর একটি হুল্লাহ (এক বিশেষ পোশাক) ছিল, সেটি পরে তিনি দুই ‘ঈদ এবং জুমু‘আহর সালাত আদায় করতে যেতেন।
হুল্লাহ দুই খণ্ড কাপড় যা একই (জাতীয়) উপকরণে তৈরি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতর-এর সালাত আদায় করতে যাওয়ার আগে খেজুর খেতেন এবং তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন।
ইমাম আল- বুখারী (৯৫৩) আনাস ইবনু মালিক-রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন :
«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لا يَغْدُو يَوْمَ الْفِطْرِ حَتَّى يَأْكُلَ تَمَرَاتٍ ، وَيَأْكُلُهُنَّ وِتْرًا» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতর এর দিন সকালবেলা খেজুর না খেয়ে বের হতেন না, আর তিনি তা বিজোড় সংখ্যায় খেতেন।”

ইবনু ক্বুদামাহ বলেছেন :
وَقَالَ اِبْنُ قُدَامَةَ : لا نَعْلَمُ فِي اِسْتِحْبَابِ تَعْجِيلِ الأَكْلِ يَوْمَ الْفِطْرِ اِخْتِلافًا. اِنْتَهَى
“‘ঈদুল ফিতর -এর দিন তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে ফেলা যে মুস্তাহাব্ব, এ ব্যাপারে কোন ভিন্ন মত আমাদের জানা নেই।”
‘ঈদুল ফিতরের দিনে সালাত আদায়ের আগেই খেয়ে ফেলার পেছনে হিক্‌মাহ হল কেউ যেন এটি না ভাবে যে সালাত আদায় করা পর্যন্ত না খেয়ে থাকা অপরিহার্য। 
এটিও বলা হয়ে থাকে যে, (তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলার পেছনে হিক্‌মাহ হল) সাওম ওয়াজিব হওয়ার পর সাওম ভঙ্গ করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা এর আদেশ পূর্ণাংগভাবে অনুসরণের জন্য তৎপর হওয়া।
যদি একজন মুসলিম খেজুর না পায়, তাহলে সে অন্য কোন কিছু, এমনকি পানি দিয়ে হলেও ইফত্বার করবে যাতে নীতিগতভাবে সুন্নাহ অনুসরণ করতে পারে; আর তা হল, ‘ঈদুল ফিত্বর-এর সালাতের আগে ইফত্বার করা (কিছু খাওয়া বা পান করা)।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ‘আদ্বহার দিন ঈদগাহ থেকে ফেরার আগ পর্যন্ত কিছু খেতেন না, এরপর তিনি তাঁর জবেহ করা পশুর গোশত থেকে খেতেন।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দুই ‘ঈদের দিনই গোসল করতেন।

ইবনুল ক্বাইয়িম বলেছেন :
“এ সম্পর্কে দুইটি দুর্বল হাদীস রয়েছে......তবে ইবনু ‘উমার-রাদিয়াল্লাহু আনহু- যিনি সুন্নাহ অনুসরণের ব্যাপারে অত্যন্ত তৎপর ছিলেন, তাঁর থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি ‘ঈদের দিন বের হওয়ার আগে গোসল করতেন।”
আর রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের সালাত আদায় করতে হেঁটে যেতেন এবং হেঁটেই ফিরে আসতেন। 
ইবনু মাজাহ (১২৯৫) ইবনু ‘উমার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন :
«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ إِلَى الْعِيدِ ، مَاشِيًا وَيَرْجِعُ مَاشِيًا». حسنه الألباني في صحيح ابن ماجه
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের সালাত আদায় করতে হেঁটে যেতেন এবং হেঁটেই ফিরে আসতেন।”
[আল-আলবানী সহীহ ইবনি মাজাহ’তে একে হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন।]
আর ইমাম আত-তিরমিযী (৫৩০) ‘আলী ইবনু আবী ত্বালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন :
«مِنْ السُّنَّةِ أَنْ تَخْرُجَ إِلَى الْعِيدِ مَاشِيًا» . حسنه الألباني في صحيح الترمذي
“‘ঈদের সালাত হেঁটে আদায় করতে যাওয়া সুন্নাহ।”
[আল-আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’-তে একে হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন।]
ইমাম আত-তিরমিযী বলেছেন :
وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ أَنْ يَخْرُجَ الرَّجُلُ إِلَى الْعِيدِ مَاشِيًا . . . وَيُسْتَحَبُّ أَنْ لا يَرْكَبَ إِلا مِنْ عُذْرٍ
 “অধিকাংশ ‘আলিমগণ এই হাদীস অনুসরণ করেছেন এবং ‘ঈদের দিনে হেঁটে (সালাত আদায়ের জন্য) বের হওয়াকে মুস্তাহাব্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ... কোন গ্রহণযোগ্য ‘উযর (অজুহাত) ছাড়া যানবাহন ব্যবহার না করা মুস্তাহাব্ব।”
তাছাড়া রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘ঈদগাহে পৌঁছতেন, তখন কোনো আযান বা ইক্বামাত বা ‘আস-সালাতু জামি‘আহ’ (সালাত শুরু হতে যাচ্ছে) এরূপ না বলেই সালাত শুরু করতেন, এগুলোর কোনটি না করাই সুন্নাহ।
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদগাহে ‘ঈদের আগে বা পরে আর কোনো সালাত আদায় করতেন না।
রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্ববাহ -এর আগে সালাত দিয়ে শুরু করতেন। [অর্থাৎ খুতবাহ পরে দিতেন]
তদ্রূপ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকা‘আত সালাতের প্রথম রাকা‘আতে তাকবীরাতুল ইহরাম (তাকবীরে তাহরীমা) সহ পরপর সাতটি তাকবীর দিতেন। প্রতি দুই তাকবীরের মাঝে কিছু সময় বিরতি নিতেন। দুই তাকবীরের মাঝখানে বিশেষ কোনো দো‘আ পড়েছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে এটি ইবনু মাস‘ঊদ হতে বর্ণিত হয়েছে যে : “তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন, তাঁর সানা’ (প্রশংসার পুনরাবৃত্তি) পাঠ করতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাত (দো‘আ) পাঠ করতেন।”
ইবনু ‘উমার যিনি সুন্নাহ অনুসরণের ব্যাপারে অত্যন্ত তৎপর ছিলেন, তিনি প্রতি তাকবীরের সাথে সাথে হাত উঠাতেন।
তাকবীর শেষ করার পর তিনি ক্বিরা‘আত আরম্ভ করতেন। তিনি সূরা আল ফাতিহা পাঠ করার পর দুই রাক‘আতের যে কোনো এক রাক‘আতে “ক্বাফ ওয়াল ক্বুর’আনিল মাজীদ” (৫০ নং সূরা -ক্বাফ) এবং অপর রাক‘আতে “ইক্বতারাবাতিস সা‘আতু ওয়ান শাক্বক্বাল ক্বামার” (৬৪ নং সূরা- আল- ক্বামার) পড়তেন। আবার কখনো “সাব্বিহিস্‌মা রাব্বিকাল আ‘লা” (৮৭ নং সূরা- আল- আ‘লা) ও “হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ” (৮৮নং সূরা আল- গাশিয়াহ) পড়তেন। এই দুটিই সহীহ বর্ণনাতে পাওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো সূরার কথা সহীহ বর্ণনায় পাওয়া যায় না।
ক্বিরা‘আত শেষ করার পর তিনি তাকবীর বলে রুকূ‘ করতেন। এরপর সেই রাক্‌‘আত শেষ করে সাজদাহ থেকে উঠে দাঁড়ানোর পর পরপর পাঁচটি তাকবীর দিতেন। পাঁচবার তাকবীর দেয়া শেষ করার পর আবার ক্বিরা‘আত আরম্ভ করতেন। সুতরাং তাকবীরই প্রথম জিনিস যা দ্বারা তিনি প্রত্যেক রাক‘আত শুরু করতেন। ক্বিরা‘আত শেষ করার পর তিনি রুকূ‘ করতেন।
আত-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবন ‘আব্দিল্লাহ ইবন ‘আমর ইবন ‘আওফ থেকে, তিনি তাঁর বাবা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে যে-
“রাসূলুল্লাহ দুই ‘ঈদের সালাতে প্রথম রাক‘আতে ক্বিরা‘আতের পূর্বে সাতবার তাকবীর দিতেন এবং অপর রাক‘আতে ক্বিরা‘আতের পূর্বে পাঁচবার তাকবীর দিতেন[1]।”

ইমাম আত-তিরমিযী বলেছেন: “আমি মুহাম্মাদকে- অর্থাৎ ইমাম আল বুখারী-কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন: ‘এই বিষয়ে এর চেয়ে সহীহ আর কোনো বর্ণনা নেই।’ আর আমিও এই মত পোষণ করি[2]।”
আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করতেন, তখন তিনি ঘুরে সবার দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন । সবাই তখন কাতারে বসে থাকত। তিনি তাদেরকে উপদেশ দিতেন, ওয়াসিয়্যাত করতেন, আদেশ করতেন ও নিষেধ করতেন, কোন মিশন পাঠাতে চাইলে তা পাঠাতেন অথবা কাউকে কোন আদেশ করতে হলে সে ব্যাপারে আদেশ করতেন।
আর সেখানে কোন মিম্বার থাকত না যার উপর তিনি দাঁড়াতেন এবং মাদীনার মিম্বারও আনা হত না। বরং তিনি তাদেরকে মাটির উপর দাঁড়িয়েই খুত্ববাহ দিতেন। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন :
“আমি রাসূলুল্লাহর সাথে ‘ঈদের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুত্ববার আগে কোনো আযান এবং ইক্বামাত ছাড়াই সালাত শুরু করলেন। তারপর তিনি বিলালের কাঁধে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। এরপর তিনি আল্লাহকে ভয় করার আদেশ দিলেন, আনুগত্য করার ব্যাপারে উৎসাহিত করলেন, মানুষদের উপদেশ দিলেন এবং তাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন। এরপর তিনি মহিলাদের কাছে গেলেন, তাদেরকে আদেশ দিলেন ও তাদেরকে (আল্লাহর) বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দিলেন।” (আল-বুখারী ও মুসলিম) 
আবু সা ‘ঈদ আল খুদরী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- বলেছেন :
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদুল ফিতর ও ‘ঈদুল আযহা -এর দিন মুসাল্লায় (ঈদগাহে) যেতেন, এরপর প্রথমেই সালাত দিয়ে শুরু করতেন, তারপর তিনি উঠে গিয়ে লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন, সবাই তখন কাতারে বসে থাকত।”
(এই হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সকল খুত্ববাহ আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করতেন। এমন একটি হাদীসও পাওয়া যায় না যেখানে বলা হয়েছে তিনি দুই ‘ঈদের দুই খুত্ববাহ তাকবীর দিয়ে শুরু করতেন। বরং ইবনু মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে (১২৮৭) সা‘দ আল-ক্বুরায থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মু’আয্‌যিন ছিলেন :
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই খুত্ববাহর মাঝখানে তাকবীর পাঠ করতেন আর দুই ‘ঈদের খুত্ববাহতে বেশি বেশি করে তাকবীর পাঠ করতেন।”
আল-আলবানী ‘দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) ইবন মাজাহ’-তে একে দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; এই হাদীসটি দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) হলেও এতে এমন কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ঈদের খুত্ববাহ তাকবীর দিয়ে শুরু করতেন।
এবং তিনি (আল আলবানী) ‘তামাম আল- মিন্নাহ’ তে বলেছেন :
“যদিও এই হাদীস ইঙ্গিত করে না যে খুত্ববাহ তাকবীর দিয়ে শুরু করা শারী‘আতসম্মত, তারপরও এটির ইসনাদ দুর্বল এবং এতে এমন একজন ব্যক্তি বর্ণনাকারী আছেন যিনি দুর্বল এবং অপরজন যিনি অচেনা। তাই একে খুত্ববাহ চলাকালীন সময়ে তাকবীর বলা সুন্নাহ হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা জায়েয নয়।”

ইবনুল ক্বাইয়িম বলেছেন :
“দুই ‘ঈদ ও ইস্‌তিস্‌ক্বা’ (বৃষ্টি চাওয়ার সালাত)-এর খুত্ববাহ কি দিয়ে শুরু হবে তা নিয়ে ‘আলিমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেউ বলেছেন, উভয় (দুই ‘ঈদ ও ইস্‌তিস্‌ক্বা’) খুত্ববাহই তাকবীর দিয়ে শুরু হবে এবং কেউ বলেছেন, ইস্‌তিস্‌ক্বা’ (বৃষ্টি চাওয়ার সালাত )-এর খুত্ববাহ ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) দিয়ে শুরু হবে। আবার কেউ বলেছেন, উভয় (দুই ‘ঈদ ও ইসতিসক্বা’-এর) খুত্ববাহই (আল্লাহর) প্রশংসা দিয়ে শুরু হবে।

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেন: “এটিই সঠিক মত... আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সব খুত্ববাহই আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করতেন।”
আর যারা ঈদের সালাতে উপস্থিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বসে খুত্ববাহ শোনা বা চলে যাওয়া উভয়েরই অনুমতি দিয়েছেন।
আবূ দাঊদ (১১৫৫) ‘আবদুল্লাহ ইবন আস- সা’ইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন :
شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِيدَ ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلاةَ قَالَ : «إِنَّا نَخْطُبُ ، فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَجْلِسَ لِلْخُطْبَةِ فَلْيَجْلِسْ ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَذْهَبَ فَلْيَذْهَبْ» . صححه الألباني في صحيح أبي داود.
“আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ‘ঈদের সালাতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি সালাত আদায় শেষ করে বললেন, “আমরা এখন খুত্ববাহ প্রদান করছি, তাই যে চায় বসে খুত্ববাহ শুনতে পারে, আর যে চায় সে চলে যেতে পারে।”
[আল-আলবানী একে ‘সহীহ আবি দাঊদে’ সহীহ বলেছেন।]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন পথ পরিবর্তন করতেন। তিনি এক রাস্তা দিয়ে যেতেন, আরেক রাস্তা দিয়ে ফিরে আসতেন।
আল-বুখারী (৯৮৬) জাবির ইবন ‘আবদিল্লাহ-রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন :
«كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدٍ خَالَفَ الطَّرِيقَ» .
 “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন রাস্তা পরিবর্তন করতেন।”
Islam Q & A

‘ঈদে যে ভুলগুলো হয়
ফাত্‌ওয়া নং - 36856
প্রশ্ন : দুই ‘ঈদে যেসব ভুলসমূহ এবং খারাপ কাজগুলোর ব্যাপারে আমরা মুসলিমদের সতর্ক করবো সেগুলো কী কী? আমরা কিছু কাজ দেখি যেগুলো আমরা (দোষ হিসেবে অভিযুক্ত করে) এর বিরোধিতা করি, যেমন-‘ঈদ এর সালাতের পরে কবর যিরারত করা এবং ‘ঈদের রাতে রাত জেগে ‘ইবাদত করা…
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
‘ঈদ ও তার আনন্দ সমাগত হওয়ার সাথে সাথে আমরা কিছু জিনিসের ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে চাই যেগুলো মানুষ আল্লাহর শারী‘আতকে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে না জেনে করে থাকে। যেমন:

১- ‘ঈদের আগের রাত পুরোটাই ‘ইবাদতের মাধ্যমে উজ্জীবিত করা শারী‘আতসম্মত এরূপ বিশ্বাস পোষণ করা :
কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, ‘ঈদের রাত ‘ইবাদতের মাধ্যমে উজ্জীবিত করা শারী‘আতসম্মত। এটি এক ধরণের নতুন প্রবর্তিত বিষয় (বিদ‘আত), যা কিনা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। বরং এটি দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যাতে বলা আছে “যে ‘ঈদের রাতে জেগে থাকবে, তার হৃদয় কখনো মারা যাবে না যেদিন সব হৃদয় মারা যাবে।” এটি সহীহ হিসাবে প্রমাণিত হাদীস নয়। এটি বর্ণিত হয়েছে দুইটি ইসনাদের মাধ্যমে, যার একটি হল জাল বা বানোয়াট, আর অপরটি হল খুবই দুর্বল।
দেখুন- আল-আলবানীর “সিলসিলাত আল-আহাদীস আদ্ব-দ্বা‘ঈফাহ ওয়াল-মাউদ্বূ‘আহ।” (৫২০,৫২১)
তাই অন্য রাতগুলোকে বাদ দিয়ে বিশেষভাবে ‘ঈদের রাত্রিকে ক্বিয়ামের জন্য বাছাই করা শারী‘আতসম্মত নয়। তবে যার ক্বিয়ামের (তাহাজ্জুদ পড়ার) অভ্যাস আছে, সেই ক্ষেত্রে ‘ঈদের রাতে ক্বিয়াম করায় কোনো দোষ নেই।

২- দুই ‘ঈদের দিনে কবর যিয়ারত করা :
এটি ‘ঈদ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক, যা কিনা আনন্দ, সুখ ও উল্লাসের প্রকাশ এবং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং পূর্ববর্তী সাহাবী ও তাবি‘ঈগণের ‘আমলের (শিক্ষার) বিরোধী।
সাধারণভাবে বলা যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে কবরস্থানে যাওয়া এবং তাকে একটি উৎসব (‘ঈদ) বানিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নবীর নিষেধাজ্ঞা আছে, যেমনটি ‘আলিমগণ বলেছেন।
আর এটি কবরসমূহকে উৎসব (‘ঈদ) হিসেবে গ্রহণ না করা সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে; কারণ বিশেষ কিছু সময়ে ও পরিচিত কিছু মৌসুমে কবর যিয়ারত করা একে ‘ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার অর্থে পড়ে, এমনটিই আলিমগণ উল্লেখ করেছেন।
দেখুন -আল-আলবানীর ‘আহকাম আল-জানা’ইয ওয়া বিদা‘উহা।’ (পৃঃ ২১৯, ২৫৮)

৩- জামা‘আতে সালাত পরিত্যাগ করা এবং ঘুমিয়ে থাকার কারণে সালাত ছুটে যাওয়া :
এটি খুবই দুঃখজনক, আপনি দেখবেন যে কিছু মুসলিমের সালাত ছুটে যায় এবং তারা জামা‘আতের সাথে সালাত  পরিত্যাগ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
«العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر» رواه الترمذي 2621 والنسائي 463 وصححه الألباني في صحيح الترمذي
“আমাদের এবং তাদের মধ্যে চুক্তি হল সালাত, যে তা পরিত্যাগ করবে সে কুফরী করল।”
[এটি বর্ণনা করেছেন আত-তিরমিযী (২৬২১); আন-নাসা’ঈ (৪৬৩) আর আল-আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’-তে একে সহীহ বলে চিহ্নিত করেছেন।]
রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন :
«إِنَّ أَثْقَلَ صَلاةٍ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلاةُ الْعِشَاءِ وَصَلاةُ الْفَجْرِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلا فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لا يَشْهَدُونَ الصَّلاةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّار» رواه مسلم 651
“মুনাফিক্বদের জন্য ‘ইশা’ এবং ফাজ্‌র এর সালাত সবচেয়ে বোঝাস্বরূপ। তারা যদি জানত তার মধ্যে (কী কল্যাণ) আছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে (সেই দুই সালাতে) উপস্থিত হত। আর আমি চিন্তা করেছিলাম যে সালাতের আদেশ করব আর তা কায়েম করা হবে এবং একজন লোককে আদেশ করব যে লোকদের নিয়ে (ইমাম হিসেবে) সালাত আদায় করবে, এরপর আমি আমার সাথে কিছু লোক নিয়ে যাবো যাদের সাথে কাঠের বাণ্ডিল থাকবে, সেই সমস্ত লোকদের কাছে যারা জামা‘আতের সালাতে উপস্থিত হয় নি, এরপর তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিব।” [এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৬৫১)]

৪- মুস্বাল্লাতে (সালাতের স্থানে) রাস্তাঘাট কিংবা অন্য কোনো স্থানে পুরুষদের সাথে নারীদের একত্রিত হওয়া আর ঐসব জায়গায় পুরুষদের সাথে তাদের ভিড় জমানো :
এতে আছে মহা ফিতনাহ ও বড় বিপদ। এ ব্যাপারে ওয়াজিব হল নারী এবং পুরুষ উভয়কেই সতর্কবাণী দেয়া এবং যতটুকু সম্ভব প্রতিরোধের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়া। নারীদের পুরোপুরি চলে যাবার আগে পুরুষ ও তরুণদের কখনোই সালাতের স্থান ত্যাগ করা উচিত নয়।

৫- কিছু নারীদের সুগন্ধি ও সাজগোজ করে পর্দা ছেড়ে বের হওয়া :
এই সমস্যাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু মানুষ এই ব্যাপারটিকে খুব হালকা ভাবে নেয়। (এ ব্যাপারে আমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করি।) কিছু নারী যখন তারা তারাউয়ীহ (তারাবীহ), ‘ঈদের সালাত আদায় অথবা অন্য জায়গায় বের হয় তখন তার সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি পরিধান করে এবং সবচেয়ে সুন্দর সুগন্ধি ব্যবহার করে- আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করুন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
«أَيُّمَا امْرَأَةٍ اسْتَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ عَلَى قَوْمٍ لِيَجِدُوا مِنْ رِيحِهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ»
رواه النسائي 5126 والترمذي 2786 وحسنه الألباني في صحيح الترغيب والترهيب 2019
“যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং লোকজনের পাশ দিয়ে এমনভাবে যায় যাতে তারা তার সৌরভ পেতে পারে সে একজন ব্যভিচারিণী”।
[এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসা’ঈ (৫১২৬); আত-তিরমিযী (২৭৮৬); আল-আলবানী ‘সহীহ আল-তারগীব ওয়া আত-তারহীব’ (২০১৯) এ একে হাসান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।]
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
«صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاتٌ مَائِلاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا» رواه مسلم 2128
“জাহান্নাম-বাসী দুটো শ্রেণী আছে যাদেরকে আমি দেখি নি। (১) তারা এমন মানুষ যাদের কাছে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা লোকদের মারবে এবং (২) এমন নারী যারা কাপড় পরা সত্ত্বেও বিবস্ত্র থাকে, নিজেরাও পথভ্রষ্ট এবং অপরকেও বিপথে পরিচালনা করে, তাদের মাথা হেলে যাওয়া উটের কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এমনকি এর সৌরভও পাবে না, যদিও এর সৌরভ এই এই দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।”
[এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (২১২৮)]
নারীদের অভিভাবকদেরকে যারা তাদের আশ্রয়ে আছে তাদের ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করা উচিত এবং আল্লাহ তাদের উপর যে কর্তৃত্ব করা (এবং ভরণ-পোষণ করার জন্য যে দায়িত্ব) ওয়াজিব করেছেন তা যথাযথভাবে সম্পাদন করার ব্যাপারে, কারণ –
﴿ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ﴾ [النساء: ٣٤] 
“পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দান করেছেন এবং এজন্য যে তারা (পুরুষেরা ) তাদের সম্পদ থেকে খরচ করে।”  [আন-নিসা’:৩৪]
সুতরাং, তাদের (নারীদের অভিভাবকদের) উচিত তাদেরকে অবশ্যই সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং যাতে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে পরিত্রাণ ও নিরাপত্তা থাকে সেদিকে পরিচালিত করা, তাদেরকে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে রাখা এবং যাতে তারা আল্লাহ্‌র নিকটবর্তী হতে পারে সেটার প্রতি উৎসাহ যোগানো।

৬- হারাম গান শোনা :
বর্তমানে মন্দ কাজগুলির মধ্যে যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তা হচ্ছে গান-বাজনা। এগুলো খুব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ এই ব্যাপারটিকে হালকা ভাবে নিচ্ছে। এটি এখন টিভি, রেডিও, গাড়ি, ঘরে এবং মার্কেটগুলোতে প্রকট রূপ ধারণ করেছে। লা হাওলা ওয়া লা ক্বুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (কোন শক্তি ও ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া এ সব থেকে ফিরানোর)। এমনকি মোবাইল ফোনও এই মন্দ ও খারাপ জিনিস থেকে মুক্ত নয়। অনেক কোম্পানি আছে যারা মোবাইল ফোনে সর্বাধুনিক মিউজিক টিউন দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে এবং এর সাহায্যে সঙ্গীত এখন মাসজিদসমূহে প্রবেশ করেছে, (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন)… এটি মহাবিপদ এবং খুবই মন্দ ব্যাপারগুলোর একটি যে আল্লাহ্‌র ঘরসমূহে (মাসজিদসমূহে) আপনি মিউজিক শুনতে পান। প্রশ্ন নং- (34217) দেখুন। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করে, তিনি বলেছিলেন,
«ليكونن من أمتي أقوام يستحلون الحِر والحرير والخمر والمعازف» . رواه البخاري
“আমার উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক এমন থাকবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল হিসাবে গণ্য করবে।” [এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (৫৫৯০)]
প্রশ্ন নং- (5000, 34432) দেখুন।
তাই একজন মুসলিমের আল্লাহকে ভয় করা উচিত এবং তার জানা উচিত -তার উপর আল্লাহ্‌র যে নি‘আমাত (অনুগ্রহ) আছে তার জন্য তার শোকর করা কর্তব্য। এটি কখনোই নি‘আমাতের শোকর করা নয় যে, একজন মুসলিম তার রাব্বের অবাধ্যতা করবে যিনি তার উপর অসীম নি‘আমাত বর্ষণ করেছেন।
একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা ‘ঈদের আনন্দে মত্ত হয়ে গর্হিত কাজ করছিল, তখন তাদেরকে তিনি বললেন-
“যদি তোমরা রমযানে ইহসান (ভালো করে) থাকো তাহলে এটি সেই ইহসানের শোকর করার কোনো পথ নয়। আর যদি তোমরা রমযানে খারাপ করে থাকো, তাহলে আর-রাহমানের (পরম দয়াময়ের) সাথে যে খারাপ ব্যবহার করেছে, সে এমন করতে পারে না।”
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A

তাঁর রোগ হয়েছিল যা থেকে আরোগ্য আশা করা যায় না। কিন্তু এরপর আল্লাহ্ তাকে সুস্থ করে দিলেন।
ফাত্‌ওয়া নং- 106478
প্রশ্ন : একজন মহিলাকে ডাক্তাররা তার হৃদরোগ জনিত কারণে সাওম পালন করতে নিষেধ করেছিলেন, যা থেকে সুস্থতা আশা করা যায় নি। তিনি রমযানে ইফতার করে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে সাথে সাথে ফিদইয়াহ আদায় করতেন। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হয় এবং তাঁর হার্টে ভাল্বের সার্জারি করা হয় এবং তা সফল হয় আলহামদুলিল্লাহ্। তবে তিনি এরপর কিছু সময় ইনটেনসিভ কেয়ারে চিকিৎসার অধীনে ছিলেন। এরপর তাঁর অবস্থার উন্নতি হলে আল্লাহ্ তাকে গত রমযানে সিয়াম পালনের তাওফীক্ব দেন। তিনি জানতে চাচ্ছেন, যে দিনগুলিতে সাওম ভঙ্গ করেছিলেন, সে ব্যাপারে কি করবেন? তিনি কি সেই দিনগুলোর কাযা আদায় করবেন, যার সংখ্যা ১৮০ দিন যা পরপর ছয় বছর এর সমান, নাকি তিনি সে সময় সাওমের পরিবর্তে যে ফিদইয়াহ আদায় করেছিলেন তাই তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে?
উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“তিনি সাওম ভঙ্গ করায় প্রতিদিনের পরিবর্তে যে ফিদইয়াহ আদায় করেছিলেন তা তাঁর জন্য যথেষ্ট। তাঁর সেই মাসগুলোর কাযা করা ওয়াজিব নয়। কারণ তিনি মা‘যূর, (শারী‘আত অনুমোদিত কারণে) সে সময় তাঁর উপর যা ওয়াজিব ছিল তিনি তা করেছেন।
আল্লাহই তাওফীক্ব দাতা। আল্লাহ্ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত (প্রশংসা) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করুন।”
গবেষণা ও ফাত্‌ওয়া ইস্যুকারী স্থায়ী কমিটি
শাইখ ‘আবদুল ‘আযীয ইব্‌ন ‘আবদিল্লাহ্ ইব্‌ন বায, শাইখ ‘আবদুর রায্‌যাক্ব ‘আফীফী, শাইখ ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন গুদাইইয়ান, শাইখ ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন ক্বু‘ঊদ।
[ফাত্‌ওয়া আল-লাজনাহ আদ্-দা’ইমাহ লিল বুহূস আল-‘ইলমিয়্যাহ ওয়া আল ইফতা’ (১০/১৯৫,১৯৬)]
Islam Q & A

বার্ধক্যজনিত বা অসুস্থতার কারণে সাওম পালনে অক্ষম ব্যক্তির ফিদইয়াহ এর পরিমাণ।
ফাত্‌ওয়া নং- 93243
প্রশ্ন : আমার বাবা বার্ধক্য জনিত ও অসুস্থতার কারণে অক্ষম হয়ে পুরো রমযান মাসে সাওম ভঙ্গ করেছেন। এরপর সেই সিয়াম এর কাযা আদায় না করেই সেই মাসেই মারা যান। তারপর আমরা দরিদ্রদেরকে অর্থ দানের মাধ্যমে এর কাফফারাহ আদায় করি। এরপর জানতে পারলাম যে, এই কাফফারাহ (ফিদইয়াহ) শুধু খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যমেই আদায় করতে হয়। আমাদের কি পুনরায় তাঁর পক্ষ থেকে সেই কাফফারাহ আদায় করতে হবে এবং এর পরিমাণ কত? 
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

প্রথমত :
ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফি'ঈ ও ইমাম আহমাদ ইব্‌ন হাম্বাল এর অনুসারী ফাক্বীহগণের (ফিক্বহ্‌ বিশেষজ্ঞগণ) অধিকাংশের মতে অর্থদানের মাধ্যমে সাওমের ফিদইয়াহ আদায় যথেষ্ট নয়। বরং ওয়াজিব হল তা খাদ্য দানের মাধ্যমে আদায় করা।
এর দলীল আল্লাহ্ তা'আলার বাণী :
﴿وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ﴾ [البقرة: ١٨٤] 
“আর যারা তা (সিয়াম) পালনে অক্ষম, তারা ফিদইয়াহ হিসাবে মিসকীন খাওয়াবে।” [আল-বাকারাহ: ১৮৪]
ইবনু ‘আব্বাস-রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা- বলেছেন :
هُوَ الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْمَرْأَةُ الْكَبِيرَةُ لا يَسْتَطِيعَانِ أَنْ يَصُومَا فَيُطْعِمَانِ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينًا. رواه البخاري (4505) .
“তিনি হলেন অতি বৃদ্ধ, পুরুষ ও নারী যারা সাওম পালনে অক্ষম, তাঁরা উভয়ই প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকীন খাওয়াবেন।” [এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারি (৪৫০৫)]

‘ফাত্‌ওয়া আল-লাজনাহ আদ্-দা’ইমাহ (১০/১৯৮) এ এসেছে :
“যখন ডাক্তাররা এই সিদ্ধান্ত দিলেন যে আক্রান্ত রোগের কারণে আপনি সাওম পালন করতে পারবেন না এবং তা থেকে সুস্থতা আশাও করা যায় না, তখন আপনাকে বিগত ও আগত মাসগুলোর প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকীন খাওয়াতে হবে, যার পরিমাণ হল দেশীয় খাদ্যদ্রব্য যেমন খেজুর ইত্যাদি থেকে অর্ধেক সা’। আর যদি আপনি (ছুটে যাওয়া) দিনগুলোর সংখ্যায় একজন মিসকীনকে রাতের বা দুপুরের খাবার খাওয়ান, তবে তা যথেষ্ট হবে। আর অর্থ দানের মাধ্যমে ফিদইয়াহ আদায় করলে তা যথেষ্ট হবে না।”
বৃদ্ধ অথবা অসুস্থ ব্যক্তি যার সুস্থতা আশা করা যায় না, তিনি প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকীন খাওয়াবেন। এর পরিমাণ দেশীয় খাদ্যদ্রব্য যেমন গম অথবা খেজুর অথবা চাল ইত্যাদি এর অর্ধেক সা‘ আর তা প্রায় ১.৫ কিলোগ্রামের সমান।
দেখুন- ‘ফাতাওয়াহ রমযান’ (পৃষ্ঠা ৫৪৫)
তিনি সব দিনের ফিদইয়াহ মাসের শেষে একবারে আদায় করতে পারেন। যেমন ৪৫ কিলোগ্রাম চাল- তা যদি রেঁধে মিসকীনদের দাওয়াত করে খাওয়ানো হয় তবে তা উত্তম কারণ ‘আনাস -রাদ্বিআল্লাহু ‘আনহ্- এমনটি করতেন।

দ্বিতীয়ত :
আর আপনারা যদি কোন ‘আলিমের ফাত্‌ওয়ার উপর ভিত্তি করে অর্থের দ্বারা ফিদইয়াহ আদায় করে থাকেন, তবে তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।
আর যদি আপনারা কাউকে (না জিজ্ঞেস করে) নিজেরা নিজেরাই তা করে থাকেন, তবে সে ক্ষেত্রে ওয়াজিব হবে পুনরায় (খাদ্যের মাধ্যমে) তা আদায় করা, যা আপনাদের বাবার জন্য বেশি সাবধানের ও নিরাপদ- আল্লাহ্ তাঁর উপর দয়া করুন ও তাঁকে মাফ করুন।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
Islam Q & A

এদের উপর কি সাওম পালন ওয়াজিব? তাদের কি কাযা আদায় আবশ্যক?
ফাত্ওয়া নং- 65635
প্রশ্ন : এক শিশু বালিগ্‌ হওয়ার আগে রমযানের সাওম পালন করত, রমযানে দিনের মাঝে সে বালিগ হল। তার কি সেই দিনের কাযা আদায় করতে হবে? একইভাবে রমযানে দিনের মাঝে একজন কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে, একজন হায়েযপ্রাপ্ত নারী পবিত্র হলে, পাগল ব্যক্তি জ্ঞান ফিরে পায়, মুসাফির ব্যক্তি সাওম ভঙ্গরত অবস্থায় স্বদেশে ফিরে আসলে, অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হলে- যে সেই দিন সাওম ভঙ্গ করে ফেলেছিল- এ সমস্ত ব্যক্তিদের কি সেই দিনের বাকি অংশ সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা ও সেদিনের কাযা আদায় করা ওয়াজিব?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সবার ক্ষেত্রে একই হুকুম প্রযোজ্য নয়। এ ব্যাপারে আমরা ‘আলিমগণের ভিন্ন মত ও তাদের বক্তব্য সমূহ কিছুটা বিস্তারিত আকারে (49008) নং প্রশ্নের উত্তরে উল্লেখ করেছি।
প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তিদের দুটি গ্রুপে ভাগ করা যেতে পারে :
১) কোনো শিশু যদি বালিগ হয়, কোনো কাফির যদি ইসলাম গ্রহণ করে, কোন পাগল যদি জ্ঞান ফিরে পায়- তবে তাঁদের সবার হুকুম এক, আর তা হল ‘উয্‌র (অজুহাত) চলে যাওয়ার সাথে সাথে দিনের বাকি অংশে সাওম ভঙ্গকারী সমস্ত কিছু হতে বিরত থাকা ওয়াজিব এবং এক্ষেত্রে তাদের সেই দিনের কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
২) অপরদিকে হায়েযপ্রাপ্ত নারী যদি পবিত্র হয়, মুসাফির ব্যক্তি স্বদেশে ফিরে আসে, অসুস্থ ব্যক্তি যদি আরোগ্য লাভ করে, এদের সবার হুকুম এক। এদের সাওম ভঙ্গকারী যাবতীয় বস্তু থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব নয়, কারণ তারা বিরত থাকলেও কোনো উপকার পাবে না এবং তাদের উপর সেই দিনের কাযা আদায় করা ওয়াজিব।
প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রুপের মধ্যে পার্থক্য :
প্রথম গ্রুপের মধ্যে তাকলীফের (দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার) শর্ত রয়েছে আর তা হল বালিগ হওয়া, মুসলিম হওয়া ও ‘আক্বল (বুদ্ধি) সম্পন্ন হওয়া, তাই যদি তাঁদের ক্ষেত্রে শারী‘আতসম্মতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত (মুকাল্লাফ) হওয়া প্রমাণিত হয়, তবে তাঁদের উপর সাওম ভঙ্গকারী সকল কিছু থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। এবং তাঁদের জন্য সেই দিনের কাযা আদায় করা আবশ্যক নয়। কারণ যখন তাদের সাওম ভঙ্গকারী সকল বস্তু হতে বিরত থাকা ওয়াজিব ছিল তখন তাঁরা তা থেকে বিরত থেকেছে এবং এর আগে তাঁরা সিয়ামের ব্যাপারে মুকাল্লাফ (শারীআতসম্মতভাবে দায়িত্ব) ছিল না।
অপর দিকে দ্বিতীয় গ্রুপটি সিয়াম এর ব্যাপারে শারী‘আত সম্মতভাবে দায়িত্বশীল ছিল। তাই তা পালন করা তাঁদের উপর ওয়াজিব ছিল, তবে শারী‘আত অনুমোদিত ‘উয্‌র (অজুহাত) থাকায় তাঁদের জন্য সাওম ভঙ্গ বৈধ হয়েছিল যেমন হায়েয, সফর, রোগ ইত্যাদি কারণে আল্লাহ্ তাঁদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন এবং তাঁদের জন্য সাওম ভঙ্গ বৈধ করেছেন। তাই তাঁদের ক্ষেত্রে সেই দিনের সম্মানীয় কর্তব্য পালনের দায়িত্ব চলে যায়।
তাঁদের ‘উয্‌রসমূহ (শারী‘আত অনুমোদিত অজুহাতসমূহ) রমযানে দিনের মাঝে দূরীভূত হলেও তারা সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থেকে কোনো উপকার পাবে না এবং তাদের রমযানের পর সেই দিনের সাওম কাযা করতে হবে।
শাইখ মুহাম্মাদ ইব্‌ন সালিহ আল-‘উসাইমীন- রাহিমাহুমাল্লাহ- বলেছেন :
“যদি কোনো মুসাফির তার দেশে সাওম ভঙ্গরত অবস্থায় ফিরে আসে তবে তাঁর জন্য সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব নয়, সে দিনের বাকী অংশে খেতে ও পান করতে পারে কারণ তাঁর বিরত থাকায় কোনো উপকার হবে না। এটি এজন্য যে, তাঁকে সেই দিনের কাযা আদায় করতে হবে। এটিই সঠিক মত।
এটি ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফি‘ঈ এর মত এবং ঈমাম আহমাদ - রাহিমাহুমাল্লাহ এর দুটি বর্ণনার একটি। তবে তাঁর প্রকাশ্যে আহার ও পান করা উচিৎ নয় ।”  
[মাজমূ‘ ফাত্‌ওয়া আশ-শাইখ ইব্‌ন ‘উসাইমীন (১৯/৫৮ নং প্রশ্ন)]
তিনি আরও বলেন :
“কোনো হায়েযপ্রাপ্ত নারী অথবা নিফাসপ্রাপ্ত নারী দিনের মাঝে পবিত্র হলে তাদের জন্য সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব নয়, সে খেতে ও পান করতে পারে, কারণ তাঁর বিরত থাকায় কোনো উপকার হবে না। এটি এজন্য যে, তাঁকে সেই দিনের কাযা আদায় করতে হবে।
এটি ইমাম মালিক, ইমাম আশ-শাফি‘ঈ এর মত এবং ঈমাম আহমাদ এর দুটি বর্ণনার একটি।
ইবন মাস‘ঊদ -রাদ্বিআল্লাহু ‘আন্‌হু- থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:
( من أكل أول النهار فليأكل آخره)
“যে দিনের প্রথম অংশে খেল সে যেন দিনের শেষ অংশেও খায়।”
‘অর্থাৎ যার জন্য দিনের প্রথম অংশে সাওম ভঙ্গ করা জায়েয তাঁর জন্য দিনের শেষ অংশেও সাওম ভঙ্গ করা বৈধ।’
[মাজমূ‘ ফাত্‌ওয়া আশ-শাইখ ইব্‌ন ‘উসাইমীন (১৯/৫৯ নং প্রশ্ন)]
এই শাইখকে আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল :
যে রমযানে দিনের বেলায় শারী‘আত অনুমোদিত ‘উয্‌রের কারণে সাওম ভঙ্গ করল, (সেই ‘উয্‌র চলে যাওয়ার পর) দিনের বাকি অংশে তার জন্য খাওয়া ও পান করা কি জায়েয হবে?
তিনি উত্তরে বলেন :
“তাঁর জন্য খাওয়া ও পান করা জায়েয; কারণ সে শারী‘আত অনুমোদিত ‘উয্‌রে (অজুহাতে) সাওম ভঙ্গ করেছে। সে যদি শারী‘আত সম্মত ‘উয্‌রের কারণে সাওম ভঙ্গ করে তবে তাঁর ক্ষেত্রে সেই দিনের সম্মানীয় কর্তব্য পালনের দায়িত্ব চলে যায়। ফলে সে খেতে ও পান করতে পারে।
এটি সেই ব্যক্তির অবস্থা থেকে ভিন্ন যে রমযানে দিনের বেলা কোন ‘উয্‌র (শরীয়ত অনুমোদিত অজুহাত) ছাড়া সাওম ভঙ্গ করে। এক্ষেত্রে আমরা বলব : যে তাঁর সাওম ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে (দিনের বাকি অংশে) বিরত থাকা আবশ্যক। তাঁর ক্ষেত্রে সাওম কাযা করা আবশ্যক হবে।
এই দুটি মাসআলা এর পার্থক্যের দিকে সতর্কতার সাথে লক্ষ্য করা ওয়াজিব।”
[মাজমূ‘ ফাত্‌ওয়া আশ-শাইখ ইব্‌ন ‘উসাইমীন (১৯/৬০ নং প্রশ্ন)]
তিনি আরও বলেন :
“সিয়াম সংক্রান্ত আমাদের গবেষণায় আমরা উল্লেখ করেছি যে কোন নারী যদি হায়েযপ্রাপ্ত হয় এবং রমযানে দিনের মাঝে পবিত্র হয় তবে সে দিনের বাকী অংশে পানাহার থেকে বিরত থাকবেন কি না এ ব্যাপারে ‘আলিমগণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।
আমরা বলব : ইমাম আহমাদ - রাহিমাহুমাল্লাহ - এর থেকে এ-ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
তার মাশহুর (সর্বজনবিদিত) মতটি হল- তাঁর সাওম ভঙ্গকারী যাবতীয় বস্তু থেকে দিনের বাকি অংশে বিরত থাকা ওয়াজিব। সে খাবে না, পানও করবে না।
দ্বিতীয়ত : তাঁর বিরত থাকা ওয়াজিব নয়, তাই তাঁর খাওয়া ও পান করা জায়েয।
আমরা বলব : দ্বিতীয় এই মতটি ইমাম মালিক ও ইমাম আশ-শাফি‘ঈ- রাহিমাহুমাল্লাহ- এর মত। এটি ইব্‌ন মাস‘ঊদ -রাদ্বিআল্লাহু ‘আনহ্‌- থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন :
( من أكل أول النهار فليأكل آخره)
“যে দিনের প্রথম অংশে খেল সে যেন দিনের শেষ অংশেও খায়।”
আমরা বলব ভিন্ন মত আছে এমন মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে জ্ঞান অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীর কর্তব্য হল, দলীলসমূহ যাচাই করা এবং তাঁর কাছে যে মতটি বেশি শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হয় সেটি গ্রহণ করা এবং কারও ভিন্ন মতের ব্যাপারে পরোয়া না করা যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর সাথে দলীল আছে, কারণ আমাদেরকে রাসূলদের অনুসরণ করতে আদেশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা’আলার বাণী :
﴿ وَيَوۡمَ يُنَادِيهِمۡ فَيَقُولُ مَاذَآ أَجَبۡتُمُ ٱلۡمُرۡسَلِينَ ٦٥ ﴾ [القصص: ٦٥] 
“আর সেই দিন যখন তাদের আহবান করা হবে এবং বলা হবে তোমরা রাসূলদের কি উত্তর দিয়েছিলে?” [আল-ক্বাসাস: ৬৫]
আর এই হাদীস দ্বারা দলীল দেয়া যা সহীহ বলে প্রমানিত হয়েছে যে, নবী সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের মাঝে ‘আশুরা’ এর সিয়াম পালনের আদেশ করেছিলেন, তখন লোকেরা দিনের বাকি অংশে সাওম ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকলেন।
আমরা বলব, এই হাদীস তাদের পক্ষে কোনো দলীল নয়; কারণ ‘আশুরা’ এর সাওমে ‘বাঁধা দানকারী বিষয় (যেমন হায়েয, নিফাস, কুফর ইত্যাদি) দূরীভূত হওয়ার’ কোনো ব্যাপার নেই। বরং এই ক্ষেত্রে ‘নতুন ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানোর’ ব্যাপারটি রয়েছে।
‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়া’ ও ‘নতুন ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানোর’ মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
‘নতুন ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানোর’ অর্থ হল সেই নির্দিষ্ট কারণ (যেমন ‘আশুরা’ এর দিন) উপস্থিতির আগে সেই হুকুমটি প্রতিষ্ঠিত হয় নি।
অপরদিকে ‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়ার’ অর্থ হল- সেই বাধাদানকারী বিষয়টি (যেমন হায়েয, নিফাস, কুফর ইত্যাদি)র উপস্থিতি সত্বেও এই হুকুমটি (যেমন সাওম পালন) প্রতিষ্ঠিত। যদি না এ ‘বাধাদানকারী বিষয়টি’ (যেমন হায়েয, নিফাস, কুফর) ইত্যাদি তা থেকে বাধা না হতো। আর বিধান প্রদানের কারণ (যেমন বিবেকবান হওয়া) তার সাথে এই বাধাদানকারী বিষয়টি (যেমন হায়েয হওয়া) এটি উপস্থিত থাকার অর্থ হল সেই কাজটি (সাওম পালন) এই ‘বাধাদানকারী বিষয়টির (যেমন হায়েয, নিফাস, কুফর) উপস্থিতির কারণে শুদ্ধ হবে না।
প্রশ্নকারীর উল্লেখিত মাসআলা এর মত আরেকটি উদাহরণ হল- দিনের মাঝে যদি কেউ ইসলাম গ্রহণ করে তবে তাঁর ক্ষেত্রে ‘নতুন করে ওয়াজিব দায়িত্ব’ বর্তায়।
এরকম আরেকটি উদাহরণ হল, কোনো শিশু দিনের মাঝে সাওম ভঙ্গকারী অবস্থায় বালিগ হলে তাঁর উপর ‘নতুন করে ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তায়। তাই যে দিনের মাঝে ইসলাম গ্রহণ করল আমরা তাঁকে বলব : আপনার জন্য (দিনের বাকি অংশে) সাওম ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে আপনার উপর কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
একই ভাবে দিনের মাঝে যে শিশু বালিগ হয়েছে, তাঁকে আমরা বলব : আপনার জন্য (দিনের বাকি অংশে) সাওম ভঙ্গকারী বিষয়বস্তু থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে আপনার উপর কাযা আদায় করা ওয়াজিব নয়।
তবে একজন হায়েযপ্রাপ্ত নারীর ক্ষেত্রে হুকুমটি ভিন্ন হবে; যদি (দিনের মাঝে) সে পবিত্র হয়। ‘আলিমগণের মাঝে এ ব্যাপারে ইজমা’ (ঐকমত্য) রয়েছে যে তাঁর উপর সাওম কাযা করা ওয়াজিব। একজন হায়েযপ্রাপ্ত নারী দিনের মাঝে পবিত্র হয়ে দিনের বাকি অংশে সাওম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকলে, এই বিরত থাকা যে তাঁর কোনো উপকারে আসবে না ও সাওম বলে গণ্য হবে না এবং তাঁকে যে সাওম কাযা করতে হবে- এ ব্যাপারে ‘আমিলগণ ইজমা’ (ঐকমত্য) পোষণ করেছেন।
এ থেকে ‘নতুন করে ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানো’ ও ‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়ার মধ্যে’ পার্থক্য জানা গেল।
সুতরাং একজন হায়েয প্রাপ্ত নারী পবিত্র হওয়ার মাস‘আলাটি ‘বাধাদানকারী বিষয় দূরীভূত হওয়া’ শীর্ষক শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত এবং কোনো শিশুর বালিগ হওয়া অথবা প্রশ্নকারীর উল্লেখিত ‘আশুরা’ দিনের সাওম ওয়াজিব হওয়া- রমযানের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে- নতুন করে ওয়াজিব দায়িত্ব বর্তানো’ শীর্ষক শিরোনামের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই তাওফীক্ব দাতা।” 
[মাজমূ‘ ফাত্‌ওয়া আশ-শাইখ ইব্‌ন ‘উসাইমীন (১৯/৬০ নং প্রশ্ন)]
Islam Q & A

রমযানের কাযা আদায় ও শাউওয়ালের ছয় দিনের সাওম এক নিয়্যাতে এক সাথে আদায় করা শুদ্ধ নয়।
ফাত্‌ওয়া নং- 39328

প্রশ্ন : আমার জন্য কি শাউওয়ালের ছয় দিনের সাওম ও হায়েয জনিত কারণে রমযানে ভঙ্গ হওয়া দিনগুলোর কাযা এক নিয়্যাতে পালন করা জায়েয?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
না, তা শুদ্ধ নয়, কারণ শাওয়ালের ছয় দিনের সিয়াম রমযানের ছুটে যাওয়া সিয়াম পুরোপুরি কাযা না করা পর্যন্ত শুরু হবে না।
শাইখ ইব্‌ন ‘উসাইমীন ‘ফাত্‌ওয়া আস-সিয়াম’ (৪৩৮)- এ বলেছেন :
“যে ‘আরাফাতের দিন অথবা ‘আশুরা’-এর দিনে সাওম পালন করে এবং তাঁর উপর রামাযানের সাওম কাযা করা বাকী রয়েছে, তাঁর সিয়াম শুদ্ধ হবে, কিন্তু যদি এই দিনে রমযানের কাযা আদায়ের ও নিয়্যাত করে তবে তাঁর দুই বার সাওয়াব (প্রতিদান) হবে- ‘আরাফাতের দিন অথবা ‘আশুরা’র দিন সাওম পালনের সাওয়াব ও কাযা আদায়ের সাওয়াব।’
এটি সাধারণ নাফল সাওমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা রমযানের সাথে সম্পৃক্ত নয়।
তবে শাউওয়ালের ছয় দিনের সিয়াম রমযানের সাথে সম্পৃক্ত এবং তা রমযানের কাযা আদায়ের পরেই হতে হবে। তাই যদি কেউ কাযা আদায়ের আগে তা পালন করে তবে তাঁর সাওয়াব (প্রতিদান) হবে না কারণ নবী -সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সালাম- বলেছেন :
«من صام رمضان ثم أتبعه بست من شوال فكأنما صام الدهر»
“যে রমযানের সাওম পালন করল, এরপর শাওয়ালের ছয় দিনের সাওম পালন করল, সে যেন গোটা বছর সাওম রাখল।”
আর এটি জানা বিষয় যে, যার উপর রমযানের কাযা সাওম বাকী রয়েছে, সে রমযান এর সাওম পালন করেছে বলে ধরা হবে না, যে পর্যন্ত না সে তাঁর কাযা সম্পন্ন করে।”
Islam Q & A

কাযা এর নিয়্যাতে নাফল সিয়াম পালনের হুকুম
ফাত্ওয়া নং- 11784
প্রশ্ন : যদি কোন মুসলিম নারী সোম ও বৃহস্পতিবারের সিয়াম পালনে অভ্যস্থ হয়ে থাকে, তবে কি তাঁর জন্য সেই সিয়ামের দ্বারা রমযান মাসের ফাওত হওয়া (ছুটে হওয়া দিনগুলোর) কাযা আদায় করার সুযোগ নেয়া জায়েয নাকি নিয়্যাত স্বতন্ত্র (আলাদা) হওয়া ওয়াজিব?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“রমযান মাসের ছুটে যাওয়া দিনগুলোর কাযা আদায় করতে সোম ও বৃহস্পতিবারের সিয়াম পালনে কোনো দোষ নেই এই শর্তে যে, সেই সিয়াম রমযানের কাযা করার নিয়্যাতে হতে হবে। হতে পারে তিনি একসাথে দুই বার সাওয়াব (প্রতিদান) পাবেন- কাযা এর সাওয়াব ও নাফল সিয়াম এর সাওয়াব; আল্লাহর করুণা তো প্রশস্ত।
আর যদি ধরে নেয়া হয় যে তিনি শুধু কাযা আদায় করতে পারছেন তবে কাযা নাফল সিয়াম থেকে উত্তম, আর যদি তিনি নাফল সিয়ামের নিয়্যাত করে থাকেন এবং কাযা এর নিয়্যাত না করে থাকেন, তবে এর দ্বারা ফরয আদায় হবে না এবং তাঁকে রমযানে ভঙ্গ করা সাওমগুলোর কাযা আলাদাভাবে করতে হবে।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আল্লাহ আমাদের নাবী, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর সালাত (প্রশংসা) বর্ষণ করুন।”
[কিতাব ফাত্‌ওয়া ইসলামিয়্যাহ (খন্ড-২, পৃঃ ১৪৯-১৫০), ফাত্‌ওয়া আল-লাজ্‌নাহ আদ্-দা’ইমাহ (খন্ড-১০, পৃঃ ৩৮৩)]

Islam Q & A

ষাট জন মিসকীনকে একসাথে খাওয়ানো (ফিদইয়াহ আদায়) কি ওয়াজিব? নিজ পরিবারকে কি কাফফারাহ হতে খাওয়ানো যায়?
ফাত্ওয়া নং- 132273
প্রশ্ন: আমি রমযানে একদিন ইচ্ছাকৃতভাবে সাওম ভঙ্গ করেছিলাম এবং ষাট জন মিসকীনকে খাওয়াতে চেয়েছি। এখন প্রশ্ন হল যে, মিসকীনদেরকে কি একবারেই খাওয়ানো শর্ত না কি আমি প্রতিদিন চার বা তিনজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারি? আমার জন্য কি পরিবারের সদস্যদেরকে (যেমন আমার বাবা, মা ও ভাইদের) খাওয়ানো (ফিদইয়াহ দান) জায়েয, যদি তারা মিসকীন হয়ে থাকে?
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
“সহবাস বা মিলন ছাড়া অন্য কোনো কারণে যদি রমযানের সাওম ভঙ্গ করা হয়ে থাকে, তবে সঠিক মতটি হল এর কোনো কাফফারাহ নেই। তবে এই ক্ষেত্রে ওয়াজিব হল তাওবা করা এবং সেই দিনের সাওম কাযা করা, যদি সাওম শুরু করার পর তা ভাঙ্গা হয়। আর যদি সহবাস/মিলন এর কারণে সাওম ভঙ্গ করা হয়ে থাকে তবে সে ক্ষেত্রে কর্তব্য হচ্ছে, তাওবাহ করা, সে দিনের সাওম কাযা করা এবং কাফফারাহ আদায় করা- আর তা হল একজন মুমিন দাস (শরীয়াত অনুমোদিত যুদ্ধলব্ধ) মুক্ত করা। তবে, যে তা পেল না, সে দুই মাস বিরতিহীনভাবে সিয়াম পালন করবে; আর যদি সে তাও না পারে, তবে সে ষাট জন মিসকীনকে খাওয়াবে (সংখ্যা ষাট ই হতে হবে)।
যদি সে পূর্বে উল্লেখিত দাসমুক্তি ও সিয়াম পালনে অক্ষমতার কারণে মিসকীন খাওয়ায় তবে তাঁর জন্য মিসকীনদের একসাথে খাওয়ানো জায়েয (বৈধ) এবং সাধ্যমত থেকে থেকে কয়েকবারে খাওয়ানোও জায়েয (বৈধ); তবে মিসকীনদের এই সংখ্যা (ষাট) অবশ্যই পূর্ণ করতে হবে।
এই কাফফারাহ এর খাবার বংশ মূল যেমন বাবা, মা, দাদা, দাদী, নানা, নানী এদের প্রদান করা জায়েয নয়। একইভাবে যার বংশধর শাখা যেমন ছেলেমেয়ে, তাঁদের ছেলেদের ও মেয়েদের, তঁদেরও প্রদান করা জায়েয নয়।
আল্লাহই তাওফীক্ব দাতা। আল্লাহ আমদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবারবর্গ ও সাহাবীগনের উপর সালাত (প্রশংসা) ও সালাম (শান্তি) বর্ষণ করুন।” সমাপ্ত।
[গবেষণ ও ফাত্‌ওয়া ইস্যুকারী আল-লাজ্‌নাহ আদ্-দা’ইমাহ ]
আশ-শাইখ ইব্‌ন ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন ‘আবদুল ‘আযীয বিন বায, আশ-শাইখ ‘আবদুল্লাহ ইব্‌ন গুদাইইয়ান, আশ-শাইখ সালিহ আল ফাওযান, আশ-শাইখ ‘আবদুল ‘আযীয আল আশ-শাইখ, আশ-শাইখ বাক্‌র আবু যাইদ। ফাত্‌ওয়া আল-লাজনাহ আদ্-দা’ইমাহ, দ্বিতীয় গ্রুপ (৯/২২১)]
ফাত্‌ওয়া আল-লাজ্‌নাহ আদ্-দা’ইমাহ, দ্বিতীয় ভাগ (৯/২২১)

শা‘বান থেকে রমযানের পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে সাওম পালন করা
ফাত্ওয়া নং- 38044
প্রশ্ন : আল্লাহ আমকে মাফ করুন, আমি ধূমপান ত্যাগ করেছি এবং সিয়াম পালন শুরু করেছি ৭ রজব থেকে শা‘বান এর শেষ পর্যন্ত এবং শা‘বান ও রমযানের মাঝে কোন বিরতি দেই নি কারণ, এই ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন ফাত্‌ওয়া পাওয়া গেছে।
উত্তর :
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আপনাকে এই হারাম হতে বিরত থাকার তাওফীক্ব দিয়েছেন। আমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে আমাদের ও আপনার জন্য মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর দ্বীনের উপর অটল ও অবিচল থাকার তাওফীক্ব চেয়ে প্রার্থনা করছি।
আপনার শা‘বান ও রমযান এর মাঝে বিরতিহীনভাবে সিয়াম পালন করা জায়েয। এক্ষেত্রে আপনি আপনার এই কাজ দ্বারা সুন্নাতের উপর আমল করেছেন।
দেখুন প্রশ্ন নং (13726) ও (26850)।
Islam Q & A
_________________________________________________________________________________
[1] তিরমিযী, হাদীস নং ৫৩৬। [সম্পাদক]
[2] তিরমিযী, আল-‘ইলালুল কাবীর, ১/২৮৮। [সম্পাদক]



অনুবাদক : ইবতিসাম আযাদ আব্দুর রাহমান
সম্পাদক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সূত্র : মাক্তাবা আস-সাবাত http://www.aththabat.com





আরও পড়ুনঃ রোজার আদব
আরও পড়ুনঃ ঈদের বিধিবিধান
“রমজান মাস” বিষয়ের উপর আরও পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।
“রোজা” বিষয়ের উপর আরও পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন