বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০১৪

গানের বিধান : ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে

গানের বিধান : ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে



গানের বিধান : ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:
আল্লাহ তাআলা মানব জাতীকে অতীব সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। চোখ, কান ও অন্তর দ্বারা মানবজাতীকে সৌন্দর্য মন্ডিত করেছেন। আর ক্বিয়ামতের দিন মানব জাতির প্রত্যেককে আল্লাহ তাআলার দরবারে হাজির হতে হবে এবং জিজ্ঞাসার সম্মূখীন হতে হবে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে স্বীয় মাখলুকের মধ্যে চিন্তা-ফিকির করার যে নির্দেশ মানুষকে দিয়েছেন সে অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর মাখলুক সম্পর্কে চিন্তা- ফিকির করে, তবে সে অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টির মহত্ব, তার সৌন্দর্য মন্ডিত কারীগরি ও নিঁখুত আবিস্কারের পরিপূর্ণতা প্রত্যক্ষ করবে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
((وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ)) (الذاريات:২১).
তোমাদের নিজদের মধ্যেও। তোমরা কি চক্ষুষ্মান হবে না? (জারিয়াত: ২১)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে যে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে কান ও চোখ হল, মানুষের জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ ও আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্যতম। আল্লাহ তাআলা তার মহা গ্রন্থ আল-কুরআনে বলেন,
(( إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا)) (الإنسان:২).
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, আমি তাকে পরীক্ষা করব, ফলে আমি তাকে বানিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।

এ আয়াতটিতে গভীরভাবে চিন্তা-ফিকির করলে, দেখতে পাবে কানকে চোখের পূর্বে উল্লেখ করার বিশেষ হিকমত ও প্রজ্ঞাময় অর্থাবলী। অর্থাৎ, কানই হল আল্লাহর তাআলার সর্বাধিক গুরুত্ব পূর্ণ নেয়ামত যদ্বারা মানুষ আল্লাহর দ্বীনকে আয়ত্ব করতে পারে এবং তার শরীয়ত ও বিধানাবলী বুঝতে পারে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমের উনিশটি স্থানে কান ও চোখের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সতেরটি স্থানে কানকে চোখের পূর্বে উল্লেখ করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা পদত্ত যত নেয়ামত আছে তার মধ্যে কর্ণই হল, আল্লাহর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মহান নেয়ামত। আল্লাহ তাআলা তার কালামে কর্ণকে চক্ষুর পূর্বে উল্লেখ করার হিকমত প্রসঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের কর্ণ চক্ষুর আগেই পূর্ণতা লাভ করে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কর্ণকে চক্ষুর পূর্বে আলোচনায় নিয়ে আসেন। এছাড়াও সাধারণত একজন মানুষ কানের মাধ্যমেই শরীয়তের বিধানাবলীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং তার জ্ঞান মানুষের অন্তরে আল্লাহর বিধান ও শরিয়ত কর্ণের মাধ্যমেই স্থান করে নেয়।

একজন অন্ধ লোক তার দ্বীনের বিষয়ে সর্বাধিক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সে তার দুনিয়ার বিষয়ে সর্বাধিক অধিক ক্ষতিগ্রস্থ এবং সে ক্বিয়ামতের দিন অঙ্গহীণ ক্ষতিগ্রস্থ লোকদের থেকে পরিণতিতে সবচেয়ে উত্তম লোক। পক্ষান্তরে বধির তার দুনিয়া বিষয়ে তাদের উভয়ের থেকে কম ক্ষতিগস্থ এবং দ্বীনের বিষয়ে তাদের উভয়ের তুলনায় কম উপকৃত। কারণ, কান দ্বারা মানুষ শরীয়তকে বুঝে এবং সে মুকাল্লাফ ও আল্লাহর আদেশ পালনের দয়িত্ব প্রাপ্ত হন। এ কারণেই কান আল্লাহর মানব সৃষ্টির প্রসংশিত স্থানেই তার স্থান রাখা হয়েছে। মানুষকে সন্দর সুরের অধিকারী করেছেন এবং কান দিয়েছেন যাতে সুর থেকে সে আনন্দ ও উল্লাস উপভোগ করতে পারে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে করীমে এরশাদ করেন,
((الْحَمْدُ لِلهِ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا أُولِي أَجْنِحَةٍ مَّثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ)) (فاطر:১).
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, ফেরেশতাদেরকে বাণীবাহকরূপে নিযুক্তকারী, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টির মধ্যে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। (সূরা ফাতির: ১)

আল্লামা ইবনে জারীর আত্‌তাবারী রহ. আল্লাহ তাআলার বাণী: 
((يزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ)) (فاطر:১). 
এর তাফসীরে বলেন এখানে উদ্দেশ্য হল, সুন্দর আওয়াজ, যদ্বারা একজন মানুষ আনন্দ উপভোগ করে। আল্লাহ তাআলা ভালো কথা ও সুন্দর উক্তি শ্রুতিমধুর হওয়াতে তার প্রসংশা করেছেন। আর শোনা ছাড়াতো কোন কথার প্রসংশা করা যায় না। তাই আল্লাহর সুন্দর ও শ্রুতি মধুর আওয়াজের প্রশংসা করেছেন এবং কর্কশ ও বিরক্তকর আওয়াজের নিন্দা করেছেন। আল্লাহ তাআলা গাধার আওয়াজের নিন্দা জানিয়ে বলেন, 
'আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, তোমার আওয়াজ নীচু কর; নিশ্চয় সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল গাধার আওয়াজ'। (সূরা লুকমান: ১৯)
এতে প্রতীয়মান হয় যে, কতক এমন সুন্দর আওয়াজ আছে, যা শোনে কান আগ্রহী ও আনন্দ পায়, আর এধরনের আওয়াজ জান্নাতীদের নেয়ামতের অর্ন্তভূক্ত। যেমন আল্লাহ তআলা বলেন,
"অতএব যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে জান্নাতে পরিতুষ্ট করা হবে।"
এ আয়াতের তাফসিরে বর্ণিত, তা হল, শ্রবণ। আল্লামা ইবনে জারির আওজায়ী হতে এবং তিনি ইয়াহয়া ইবনে কাসীর হতে বর্ণনা করেন তা হল, শ্রবণ।
এ কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, মানুষের স্বভাব হল, সুন্দর আওয়াজ ও সূর দ্বারা উপভোগ করা। তাই দেখা যায় একজন ছোট বাচ্চা যে কিছুই বোঝে না সেও সূর শোনে অভিভুত হয় এবং আনন্দ পায়।
বিষয়টি শুধু আদম সন্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং চতুষ্পদ জন্তুও যখন সে দেখতে পায় তার উপর আরোহী লোকটির সূর সুন্দর হয়, তখন সে খুব দ্রুত দৌড়তে থাকে।
এ কারণে আল্লামা ইবনে উলাইয়া বলেন, আমি একদিন ইমাম শাফেয়ীর সাথে হাঁটতে ছিলাম তখন আমরা একটি আওয়াজ শোনে তার প্রতি আকৃষ্ট হলাম তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন তোমাকে কি আওয়াজ অভিভুত করছে? বললাম না তিনি বললেন, কেন! সুন্দর।
একই অর্থে সফরে তারা মক্কার পথে যে কবিতা-গান আবৃতি করত।
بشَّرها دليلُـهـا وقـالا ** غدًا ترين الطّلْحَ والحبالا
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতদের কুরআনকে মধুর কন্ঠে তিলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
(( ليس منّا من لم يتغنَّ بالقرآن )).
যে কুরআনকে সূর দিয়ে তিলাওয়াত করে না সে আমার উম্মতের অন্তভূর্ক্ত নয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, আল্লাহ তাআলা কোন নবীকে সূর ও উচ্চ আওয়াজ করার অনুমতি দেননি যেমনটি অনুমতি দিয়েছেন কুরআন তিলাওয়াত বিষয়ে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন,
(( ما أَذِنَ الله لشيء إذنه لنبي يتغنّى بالقرآن يجهر به )).
তোমরা তোমাদের সুন্দর কন্ঠ দ্বারা কুরআনের তিলাওয়াতকে সৌন্দর্য মন্ডিত কর।
এ কারণে বিজ্ঞ আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, কুরআনকে সূর দিয়ে তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। আবার কারো কারো মতে কুরআনকে সূর দিয়ে তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। কারণ, রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিষ্কার বলেছেন-
(( زينوا القرآن بأصواتكم)). 
তোমরা তোমাদের সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্য মণ্ডিত কর।
জমহুর আলেমদের মত হল, এখানে তাগান্নি দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আওয়াজ সুন্দর করা। ইমাম শাফি রহ. এর মত, তার ছাত্র রবীর বর্ণনুযায়ী, এখানে কুরআনের তিলাওয়াতে আওয়াজ সুন্দর করাই উদ্দেশ্য।
আল্লামা ইবনে উলাইয়া বলেন, এখানে উদ্দেশ্য হল, কুরআনের অর্থ হাসিলের পর অন্য কোন অর্থ থেকে বিমুখ হওয়া। আবু উবাইদ আল কাসিম বিন সালাম রহ. এক বিবেচনায় এ অর্থটিকে বিশুদ্ধ আখ্যা দিয়েছেন।
আরবী অভিধানে এ ধরনের সব অর্থেরই অবকাশ রয়েছে। তবে সর্বাধিক স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ অর্থ হল, আওয়াজ সুন্দর করা। এ অর্থটিকেই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী- 
(( زينوا القرآن بأصواتكم)). 
(তোমরা তোমাদের সুন্দর আওয়াজের মাধ্যমে কুরআনকে সৌন্দর্য মণ্ডিত কর) সমর্থন করে।
তবে তাগান্নীর অর্থ 'অমুখাপেক্ষি হওয়া' নেয়াকে ইমাম শাফী রহ. প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণী 
((ليس منّا من لم يتغنَّ بالقرآن)). 
এর অর্থ যদি 'অমুখাপেক্ষি হওয়া' হত তাহলে তিনি এভাবে বলতেন-
ليس منا من لم يتغن.
কারো কারো মতে হাদীসটির উভয় অর্থেরই সম্ভাবনা রাখে, যেমনটি স্পষ্ট করে বলেছেন, আবু উবাইদ আল কাসেম ইবনে সাল্লাম রহ.।
এর উপর অনেকেই বিশিষ্ট আরবী কবি আ'শার কথা দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, তিনি বলেন,
وكُنْتُ امْرًَا زَمَنًا بالعِراق ** عَفِيفَ المُناخِ طَويلَ التَّغَنْ
অর্থাৎ, মানুষের প্রতি মুখাপেক্ষি না হওয়া এবং তাদের নিকট কোন অভাব না থাকা।

জাহিলিয়্যাতের যুগ ও ইসলাম আগমনের পরও আরবরা সাধারণত কবিতা আবৃতি করা ও গান গাওয়াকে বেশি পছন্দ করতো। এমনকি রাসূলের সাহাবীরাও কবিতাও গানকে উপভোগ করত এবং তা পছন্দ করত। ইমাম বাইহাকী রহ. তার সূনান গ্রন্থে আবী সালমা বিন আব্দুর রহমান হতে হাসান সনদে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলের সাহাবীদের মধ্যে কতক ছাহাবী এমন ছিল যারা কবিতা আবৃতি করত এবং তা উপভোগ করত.....
( كان أصحاب رسول الله - صلى الله عليه وسلم- رجالًا يقولون الشعر، ويتلذذون به، فإذا أُرِيدَ أحدٌ منهم على دينه دارت حماليق عينيه)
এর কারণ হল, অশ্লীল, অশালীন কথাবার্তা ও মানুষের স্বভাবের পরিপন্থী কার্যকলাপ তাদের ক্ষুব্ধ করত।
আরবী ভাষা, অভিধান ও তাদের পরিভাষার প্রতি লক্ষ করলে, তুমি দেখতে পাবে- তারা غنى শব্দ দ্বারা সাধারণত কবিতা, গান, কাব্যিক কথা ইত্যাদিই উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে। যেমন বিশিষ্ট আরবী কবি হুমাইদ বিন সূর বলেন,
عجبت لها أنّى يكون غناؤها ** فصيحًا ولم تفغر بمنطقها فَمَا
কারণ হল, গান হল যা শুধু মুখ থেকে বের হয়ে থাকে তার সাথে অন্য কিছুকে সম্পৃক্ত করা হয় না। যদি গানের কথার সাথে অন্য কোন বাজনা বা বাদ্য শোনা যায় তবে তা শুধু গান থাকে না। তখন তাকে কবিতা, গান ও কাব্যিক কথা ইত্যাদি আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে যদি তার আওয়াজ সুন্দর হয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কথার মধ্যে তা আরো স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, 
(( ليس منا من لم يتغنَّ بالقرآن)). 
তিনি আরো বলেন, 
(( ما أذِنَ الله لشيء أذنه لنبي أن يتغنَّ بالقرآن)). 
অর্থাৎ, কুরআনের তিলাওয়াতে আওয়াজকে সুন্দর করা।
রাসূলের সাহাবীদের কর্ম ও আরবদের বিভিন্ন কবিতার মধ্যে চিন্তাভাবনা করলে দেখা যাবে যে, তারা غناء শব্দ উল্লেখ করা দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হল, কবিতা ও গান। এমনকি পরবর্তী লোকদের জন্য বিষয়টি আরো জটিল হয়ে গেল। কারণ, তারা ধারণা করত যে, তারা তাদের কথা ব্যবহার করত এবং তার দ্বারা পরবর্তীদের পরিভাষানুযায়ী গানকে উদ্দেশ্য নিত। অথচ এটি ছিল, নিচক অজ্ঞতা ও মূর্খতা বৈ কিছুই নয়। কারণ, তাদের غناء শব্দটি তাদের নিকট ব্যাপক অর্থে ছিল না।
غناء-পরবর্তীদের পরীভাষা অনুযায়ী যে অর্থ দাড়ায়- ও হেদা- সাহাবী ও সলফপ্রমূখদের হতে যে অর্থটি বর্ণিত হয়ে আসছে- শব্দ দুটির উদ্দেশ্যের মাঝে প্রার্থক্য করাটা মুশকিল হওয়া ও শব্দদ্বয় অর্থের দিক দিয়ে একই রকম হওয়াতে ইবনে হাম্বলী এ বিষয়ে একটি কিতাব লিখেন যার উপর আল্লামা ইবনে কুদামা এ বলে কটাক্ক করেন- তিনি হেদা শব্দ উল্লেখ করে غنى এর উপর দলীল পেশ করতে আরম্ভ করেন, আর মূলত. এ কাজটি তিনিই করতে পারে যিনি غناء ও হেদা শব্দদ্বয়ের মধ্যে প্রার্থক্য করতে পারে না এবং কোনটি কবিতা তাও বুঝে না। সুতরাং যার যোগ্যতা এর মধ্যে সীমাবদ্ধ সে কখনোই ফতোয়া দেয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হতে পারে না।
আর যিনি এ কথা বললেন, সে একই কথা তিনি তার কিতাবে আলমুগনীতে আলোচনা করেন, তিনি বলেন, আলেমদের নিকট ইখতেলাফের কেন্দ্র হল غناء। সে এ কথা দ্বারা কোন غناء উদ্দেশ্য নিয়েছে?
উত্তর:- এ দ্বারা তার উদ্দেশ্য হেদা-গান। কারণ, তিনি তার মৃত্যুর একবছর পূর্বে ইবনে হাম্বলীর খুব সমালোচনা করেছে এবং গান- غناء হারাম হওয়ার আলেমদের ইত্তেফাকের কথা আলোচনা করেছেন।
ইমাম ইবনে যুজী বলেন, " غناء বা গান তাদের যুগে যুহদ সম্পর্কীয় বিভিন্ন ধরনের কবিতারই সমষ্টিরই নাম তবে তারা এ গুলোকে সূর দিয়ে আবৃতি করত।"
এ কারণেই অনেক ফকীহগণ রশীদ ইবনে জামের উপস্থিতিতে বলত, غناء রোজার ক্ষতি করে। তখন সে বলল, তুমি ওমর বিন আবি রাবীয়ার ঘরে বসে কী বলছ যে এ কাব্য আবৃতি করল
أمِن آل نُعْمٍ أنتَ غادٍ فمُبْكِرُ ** غداة غـد أم رائح فـمـهـجـر!
তার কি রোজার ক্ষতি হবে?
বলল, না। এ তো হল, যদ্বারা আমি আমার আওয়াজকে লম্বা করলাম এবং আমারাতো কেবল মাথাকেই নাড়ালাম।
তোমরা আরো লক্ষ কর, আতা বিন আবি রাবাহ এর কথার প্রতি, তিনি বলেন, মুহরিমের জন্য গেনা ও হেদা দ্বারা কোন অসুবিধা নাই।
কুরআন, হাদীস ও রাসূলের সাহাবী হতে বর্ণিত নুসুস গুলোর প্রতি লক্ষ করলে দেখতে পাবে যে, ওহী বোঝার আরবী সাহিত্য দ্বারাইা বুঝতে হবে। যার মধ্যে কোন সূর অথবা অশুদ্ধতা থাকে না।
এ কারণেই আল্লামা ইবনে কুদামা রহ. যে ব্যক্তি শব্দ দুটির মধ্যে প্রার্থক্য করতে পারে না এবং উভয়কে একত্র করে ফেলে, তাকে ফতোয়া দেয়ার উপযুক্ত বলে মনে করে না। বরং, তিনি তাকে ফতোয়া দেয়ার অযোগ্য মনে করেন।
গেনা এর প্রচলন ঢোল তবলা ও বাদ্য যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তৃতীয় শতাব্দী হতে শুরু হয়। এর পূর্বে গান ঢোল তবলা ও বাদ্য যন্ত্রের মাধ্যমে প্রচলন ছিল না। এ জন্যে বলা যায় যে, রাসূল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীদের যুগে গেনা দ্বারা যা বোঝানো হত, তা বর্তমানের বাদ্য যন্ত্র ইতাদি বাঝিযে যেভাবে গান বাজনা করা হয় তা নয়। বরং তা হল, কবিতা আবৃতি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন, "রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পর তিন যুগ পর্যন্ত হেজায, শাম, ইয়ামন, মিসর, ইরাক, পশ্চিমাঞ্চল ও খুরাসান কোথাও গানবাজনা ও বাদ্যানুষ্টানে একত্র হওয়ার কোন রীতি নীতি কোন সংস্কারক, আল্লাহ ওয়ালা ও ইবাদতকারীরে মধ্যে চালু ছিল না। বরং এর প্রচলন হয় দ্বিতীয় শতাব্দীর পর থেকে"।
এ কারণেই এ কথা স্পষ্ট যে, সাহাবীদের কথা ও আরবদের কবিতার মধ্যে غنى শব্দের যে ব্যবহার পাওয়া যায় তার দ্বারা উদ্দেশ্য কোন প্রচলিত গান বাজনা নয়। বরং, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কবিতা ও কাব্য। যে গুলোকে বর্তমানে আমরা হামদ নাত ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করে থাকি।
একাধিক ভাষাবিধ, আভিধানিক ও ইমামদের থেকে গেনার এ ব্যাখ্যাটিই বর্ণিত আছে। যেমন- আবু ওবাইদ কাসেম বিন সাল্লাম তাদের অন্যতম। বরং বিষয়টিকে ইমাম শাফেয়ী রহ. আরো অধিক স্পষ্ট করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অচিরেই আসছে।
মোট কথা হল, আমাদেরকে অবশ্যই বর্তমানের পরিভাষা ও অতীতের মণীষিদের পরিভাষার মধ্যে প্রার্থক্য জানতে হবে। অন্যথায় বাস্তবতা হতে আমাদের অনেক দূরে থাকতে হবে। এবং সত্যের অদূরে থাকা ও সত্যকে উপলব্ধি করতে পারা আমাদের দ্বারা সম্ভব নয়। যদিও শব্দটি এক কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলে দেখা যাবে শব্দটি উভয় বিষয়টিকেই অন্তভূর্ক্ত করে। তবে আমাদেরকে বাহ্যিক অবস্থার প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে যে, শব্দটির ব্যবহার ও প্রয়োগ কীভাবে হচ্ছে এবং তার সাথে কী মিলছে।
প্রায় চল্লিশ বছর থেকে মিশরে যখন গানের প্রচলন শুরু হল, তখন তাদের অনেকেই সলফদের গান শব্দের ব্যবহার দ্বারা তাদের নিজেদের পক্ষে দলীল পেশ করতেন এবং তারা তাদের থেকে বর্ণিত বিভিন্ন উক্তি দ্বারা দলীল পেশ করত।
আর আল্লামা গামারী রহ. যিনি মাগরেবী আলেমদেরই একজন তিনি বলেন, এমনকি ইবলিস জ্ঞানীদের সাথে গান হারাম হওয়ার বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত।
অর্থাৎ সলফদের কথা দ্বারা দলীল পেশ করাটা সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে এ শব্দের যে ব্যাখ্যা বর্ণিত তা বাস্তবতার অনেক দূরে। এ কারণেই যাদের প্রভৃত্তির প্রভাব বিজয়ী ও যাদের জ্ঞানের পরিধি খুবই সীমিত তাদের অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্পষ্ট ও গোজামিল রয়ে গেছে।
আল্লামা ইবনে কুদামাহ যারা শব্দের অর্থের মধ্যে প্রার্থক্য করতে পারে না তাদের ফতোওয়া দেয়ার অনুপযোগী বিবেচনা করেন।

কুরআন ও হাদীসের প্রমাণাদি সম্পর্কে চিন্তা করে সে অবশ্যই দেখতে পাবে যে, আল্লাহ তাআলা একাধিক আয়াতে গান বাদ্যকে হারাম বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ বিষয়ে বর্ণিত আয়াতের সংখ্যা অনেক। গান-বাদ্যকে হারাম করার কারণ, মানবাত্মকে নেফাক ও কুফর থেকে হেফাজত করা এবং শয়তানের অনুপ্রবেশ ও কুমন্ত্রণা হতে রক্ষা করা।
আল্লাহ তাআলা মক্কাতেই অর্থাৎ ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় গান বাদ্যকে হারাম ঘোষণা করেন। এতেই অনুমেয় যে গান একজন্য মুসলমানের জন্য কতবড় ক্ষতিকর এবং বান্দার উপর তার প্রভাব যে কত মারত্মক। আল্লাহ তাআলা সূরা নজমে ও সূরা লোকমানে গান হারাম হওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দেন। আর সূরাদ্বয় অবশ্যই মক্কী সূরা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন,
(لقمان:৬). (وَمِنَ النّاسِ مَن يَشتَرى لَهوَ الحَديثِ لِيُضِلَّ عَن سَبيلِ اللَّهِ بِغَيرِ عِلمٍ وَيَتَّخِذَها هُزُوًا ۚ أُولٰئِكَ لَهُم عَذابٌ مُهينٌ)
আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।” (সূরা লুকমান: ৬)
আল্লাহ তাআলা কথাটি সূরা লোকমানে বলেছেন। আর সূরা লোকমান হল মক্কী সূরা। সাহাবী ও অন্যান্যদের ব্যাখ্যার প্রতি লক্ষ করলে দেখতে পাবে তারা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, নিশ্চয় এ আয়াতের অর্থের মধ্যে গান অন্তভূর্ক্ত। সাহাবীদের ব্যাখ্যাসমূহও এ বিষয়ে একমত। হাকেম তার মুসতাদরাকে বলেন, সাহাবীদের তাফসীর যেটি ওহীর মোতাবেক হবে, তা ইমাম বুখারী ও মুসলিমের মতে হাদীসে মুসনাদের সমপর্যায়ের হবে। তিনি অন্যত্র বলেন, তাদের ব্যাখ্য হাদীসে মারফুর মতই শক্তিশালী। আল্লামা ইবনে জারীর আততাবারী ও বাইহাকী তার সূনান ও অন্যত্র আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ হতে বর্ণান করেন, তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,
( واللهِ الذي لا إله إلا هو إن لهو الحديث لهو الغناء )
যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই সে আল্লাহর সপথ করে বলছি, নিশ্চয় কুরআনের আয়াতে لهو الحديث দ্বারা উদ্দেশ্য হল গান। তিনি এ কথাটি তিন বার বলেন। আর আব্দুল্লাহ বিন তাফসীর বিষয়ে সমগ্র সাহাবী হতে অধীক অভিজ্ঞ। যদিও তিনি সব সাহাবীদের থেকে সর্বাধিক জ্ঞানী নন।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম আমশ হতে আর তিনি মুসলিম আর মুসলিম মাসরুক হতে তিনি আব্দুল্লাহ হতে তিনি বলেন
, ‏((والذي لا إله غيره‏ ‏ما من كتاب الله سورة إلا أنا أعلم حيث نزلت, وما من آية إلا أنا أعلم فيما أنزلت
ولو أعلم أحدًا هو أعلم بكتاب الله مني تبلغه الإبل لركبت إليه ))‏.
যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই তার সপথ করে বলছি, আল্লাহর কিতাবে এমন কোন সূরা নাই যার অবতরণ স্থান সম্পর্কে আমি জানিনা। আর এমন কোন আয়াত নাই যার অবতরণের পেক্ষাপট আমি জানি না। যদি আমি কারো বিষয়ে জানতাম যে, সে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার চেযে অধিক জ্ঞাত তাহলে আমি তার সফর করতাম যদি সে পর্যন্ত উট যাওয়ার ব্যবস্থা থাকত।
বরং তাবেয়ীদের মধ্য ইমামুত তাফসীর মুজাহিদ বিন জবর এবং যিনি ইবনে আব্বাসের নিকট ত্রিশবারের মত কুরআন আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের সম্মূখে তুলে ধরেন। আমি যদি ইবনে মাসউদের ক্বিরাত অনুযায়ী কুরআন পড়তাম তাহলে কুরআনের অনেক অংশ যে গুলি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে জেনেছিলাম তা জানার জন্য আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করার মুখাপেক্ষি হতাম না। তিনি তাফসীর বিষয়ে এত বড় পণ্ডিত হওয়া সত্বেও তিনি আয়াতের এ তাফসীর বিষয়ে আল্লাহর নামের সপথ করেন। অথচ তিনি আল্লাহর বাণী-
আর যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে কিয়ামতের দিন তুমি তাদের চেহারাগুলো কালো দেখতে পাবে। অহঙ্কারীদের বাসস্থান জাহান্নামের মধ্যে নয় কি?” তিলাওয়াত করেন। একই আব্দুল্লাহ তাফসীর আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতেও বর্ণিত। যেমনটি আল-আদবুল মুফরেদে ইমাম বুখারী ইবনে জারির আতত্বাবারী এবং অনুরুপভাবে ইবনে আবি শাইবা প্রমূখগণ আতা রহ. এর হাদীস হতে এবং তিনি সাঈদ বিন যুবাইর হতে আর তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস হতে, তিনি বলেন, আয়াতটি গান-বাজনা ইত্যাদি বিষয়ে নাযিল হয়েছে। জাবের বিন আব্দুল্লাহ হতেও একই রকম তাফসীর বর্ণিত তিনি বলেন, তা হল গান। এ ছাড়াও আরো অনেক তাফসীর কারকদের আয়াতের তাফসীর গান বলেই তাফসীর করেছেন।
আল্লাহ তাআলা সূরা নজমে আরো বলেন, 
(( أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ وأنتم سامدون))
তোমরা কি এ কথায় বিস্ময় বোধ করছ? আর হাসছ এবং কাঁদছ না? আর তোমরা তো গাফিল।” (সূরা নজম: ৫৯-৬১) 
এখানে আয়াতে সামেদুন অর্থ গান-বাজনা। যেমন ইবনে জারির আততাবারী ইকরামা হতে এবং তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, (( السمود هو : الغناء )).
আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে ইবলিসকে সম্বোধন করে বলেন, 
'তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত কর, তাদের উপর ঝাপিয়ে পড় তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে' (সূরা ইসরা: ৬৪)
এখানে ইবলিসের আওয়াজ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, গান। এতেও প্রমাণিত হয় যে, গান হারাম। 
মুজাহিদ ইবনে জাবর বলেন, ইবলিসের আওয়াজ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, (( هو الغناء )). গান বাজনা।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, 
((وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا)) (الفرقان:৭২).
"আর যারা মিথ্যার সাক্ষ্য হয় না এবং যখন তারা অনর্থক কথা-কর্মের পাশ দিয়ে চলে তখন সসম্মানে চলে যায়।" (সূরা ফুরকান: ৭২)
অনেক তাফসীর বিষারদদের মতে এখানে الزُّور দ্বারা উদ্দেশ্য হল, গান।

হাদীস দ্বারা গান নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল:
ইমাম বুখারী তার বিশুদ্ধ কিতাব বুখারীতে বলেন, হিশাম বিন আম্মার বলেন, আমাদের সাদাকা বিন খালেদ হাদীস বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমাকে আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবের বলেন আমাদের আতিয়্যা বিন কাইস হাদীস বর্ণনা করেন.....আবুআমের হাদীস বর্ণনা করেন তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন তিনি বলেন,
(( لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ))
আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটি দলের আর্ভিবাব হবে যারা পশমকে রেশমকে মদকে ও গান বাজনাকে হালাল মনে করবে। 
এখানে মায়যেফ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, গান। উল্লেখিত কুরআন ও হাদীসে আলোকে এ কথা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, গান বাজনা ও মদপান ইত্যাদির মধ্যে কোন প্রার্থক্য নাই। যেমনিভাবে মদ পান করা হারাম তেমনিভাবে গান বাজনাও হারাম।

সমাপ্ত

লেখক: জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের
সম্পাদনা: ইকবাল হোছাইন মাছুম
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু।

1 টি মন্তব্য: